প্রতীম দে: সোদপুর
সোদপুর গির্জা মোড় থেকে শুরু হয়েছে মিছিল। সামনে হাঁটছেন খড়দা বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস এবং পানিহাটী কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত।
মিছিল তখন পার করছে পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের বাড়ি। ডান দিক দিয়ে মিছিল যাচ্ছে। জ্যামে অটো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সোদপুর নাটাগর রুটের অটো চালক বিশু দাস। কলতানকে এবং বাকিদের দেখিয়ে বললেন "ভুললে চলবে না, ওরা ছিল বলেই আরজি করের ঘটনা সবাই জানতে পেরেছিল।"
মেয়েকে নিয়ে টিউশনে যাচ্ছিলেন মাঝ বয়সী এক মহিলা কলতানকে দেখে এগিয়ে এসে তিনি কেঁদে ফেললেন। বললেন এ লড়াই লড়তে হবে। সিপিআই(এম) প্রার্থী বললেন এই সময় চোখের জল ফেলার নয় এই সময় লড়াইয়ের।
আরজি করে নির্যাতিতা তরুণী মা কে বিজেপি প্রার্থী করেছে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু পানিহাটি এবং খড়দার মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, কর্মসংস্থানের, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের কথা বলে প্রচার চালাচ্ছেন দুই সিপিআই(এম) প্রার্থী।
বেকারি বিরোধী দিবস উপলক্ষে এদিন উত্তর ২৪ পরগনা ডিওয়াইএফআই এবং এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে দুই প্রার্থীকে নিয়ে ছিল এই মহা মিছিল।
মিছিলের ছাত্র যুবদের ভিড় ছিল ব্যাপক।
দেবজ্যোতি দাস এর কথায়, "২০১১ সাল থেকে তৃণমূল খড়দার মানুষকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু একটাও তারা পূরণ করেনি। এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সে সমস্যার কথা আমরা প্রচারে তুলে ধরছি এবং তা সমাধানে আমরা কি করব সেই বার্তা ও আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। তৃণমূলের দুর্নীতি এলাকা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই বিষয়টিও প্রচারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।"
তার কথায় তৃণমূল বিজেপি বোঝাপড়া মানুষের কাছে স্পষ্ট। এসআইআরকে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নাজেহাল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, টিভির পর্দা ছাড়া বিজেপিকে সেই ভাবে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপি নেই আছে বামপন্থীরা।
উল্লেখ্য যেদিন খরদা এবং পানিহাটির যে অঞ্চল দিয়ে প্রচার হয়েছে সে অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকার জুড়ে কোন রাস্তার আলো নেই। লাইট পোস্ট আছে। কিন্তু তাতে কোন আলো জ্বলে না। এলাকার মানুষ দুই প্রার্থীকে কাছে পেয়ে স্থানীয় পৌর পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন।
Comments :0