Dhupguri Girls College

নিজস্ব জমি নেই ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের

জেলা

এক যুগ পেরিয়েও 'ভূমিহীন' ধূপগুড়ি গার্লস কলেজ

আধুনিক বিশাল ইমারত আছে, এক যুগ ধরে নিয়মিত পঠনপাঠনও চলছে— অথচ নিজের এক চিমটি জমির মালিকানা নেই ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের। সরকারি চরম উদাসীনতায় দীর্ঘ ১২ বছর দিশেহারা কলেজ কর্তৃপক্ষ। টাকার অভাবে জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় আটকে রয়েছে কলেজের স্থায়ী অনুমোদন এবং পরিচালন সমিতির নথিভুক্তিকরণ। ফলে ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে।

২০১২ সালে ধূপগুড়ি পুরভোটের সময় শাসকদল ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নতুন মহিলা কলেজ গড়ার। তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর উদ্যোগে ধূপগুড়ি সুকান্ত মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহিলা কলেজ গড়ার জন্য জমি হস্তান্তরের অনাপত্তি পত্র (NOC) প্রদান করে। ২০১৩ সালে উত্তর বোরাগাড়ি মৌজায় সুকান্ত মহাবিদ্যালয়ের দেওয়া সেই প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর ভিত্তি করেই পথ চলা শুরু হয় ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের। কিন্তু অভিযোগ, এরপর এক যুগ অতিবাহিত হলেও আইনি ও আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে জমির স্বত্ব হস্তান্তরের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য সরকার।

জমি দান করেও রেজিস্ট্রি না হওয়ায় চিন্তিত জমি মালিক ধূপগুড়ি সুকান্ত মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। কলেজের অধ্যক্ষ নীলাংশু শেখর দাসের কথায়, "একটা কলেজের পক্ষে নিজস্ব তহবিল থেকে এত বড় অংকের টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। আশা করব এ নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নিজস্ব নামে জমির রেকর্ড না থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন বা ইসি পাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে ওই জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করতে গেলে প্রায় ৭৭ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ প্রয়োজন। একটি নতুন কলেজের পক্ষে নিজস্ব সাধারণ তহবিল থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করা কার্যত অসম্ভব।

ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ বিজয় দেবনাথ বলেন, "সরকারি দরে ফি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি নেওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা কলেজের নেই। ২০২১ সালে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন স্তরে আবেদন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।" জমির মালিকানা না থাকায় 'সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন' করা যাচ্ছে না, ফলে মিলছে না ইউজিসি-র অনুদানও।

অথচ জনস্বার্থে রাজ্য সরকার চাইলে বিশেষ অর্ডারের মাধ্যমে মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে এই জমি লিজ বা রেজিস্ট্রি করে দিতে পারে। কিন্তু গত এক দশকে 'দিদিকে বলো' থেকে শুরু করে শিক্ষা দপ্তর— বারবার কড়া নেড়েও কোনো 'স্পেশাল অর্ডার' আসেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ধূপগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায় নিজেই এই কলেজের অধ্যাপক এবং দাতা প্রতিষ্ঠান সুকান্ত মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি। নিজের কর্মস্থলের এই তীব্র সংকটে তিনি কেবল 'আশার বাণী' শুনিয়েই দায় সারছেন বলে অভিযোগ।

এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিওয়াইএফআই (DYFI) জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নির্মাল্য ভট্টাচার্য বলেন, ​"তৃণমূল সরকার উৎসবে কোটি কোটি টাকা ওড়াতে পারে, অথচ উত্তরবঙ্গের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১ কোটি টাকার ফি মকুব করতে তাদের হাত কাঁপে। ১২ বছর ধরে একটা কলেজ 'ভূমিহীন' হয়ে পড়ে আছে, এটা এই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জার। আমরা অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি— প্রশাসনিক জট কাটিয়ে ১ টাকার বিনিময়ে জমি রেজিস্ট্রি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-যুব সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।"

উত্তরবঙ্গের নারী শিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি কবে 'ভূমিহীন' তকমা ঘুচিয়ে স্থায়ী স্বীকৃতি পাবে, নাকি স্রেফ সরকারি অবহেলায় ধুঁকতে থাকবে, এখন সেটাই দেখার। এলাকার শিক্ষা অনুরাগী মানুষ ও বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো এখন এই দাবিতে লড়াইয়ের সুর চড়াচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment