দেশে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। দেশময় তীব্র উদ্বেগের মধ্যে ফের এমন দাবি করল কেন্দ্র। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা দাবি করেন যে দেশের সমস্ত শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রয়েছে। গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে দেশে।
শর্মা জানান, গ্রাহকরা রান্নার গ্যাসের জন্য আবেদন করছেন। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলোকেও চিঠি লেখা হয়েছে। রাজ্যগুলো এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে।
উল্লেখ্য, রান্নার গ্যাসে সঙ্কটের পাশাপাশি কালোবাজারির অভিযোগও রয়েছে যথেষ্ট। রাজ্যস্তরে কন্ট্রোল রুম খোলাহয়েছে দাবি করেছে কেন্দ্র। গ্যাসের বুকিং করতে যেমন সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা তেমনই সমস্যা রয়েছে গ্যাস হাতে পেতে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— জ্বালানি সঙ্কটে জেরবার সাধারণ মানুষ থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। একদিকে আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধি, আর অন্যদিকে সরবরাহের কৃত্রিম ঘাটতি—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে গ্রাম শহরের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। গৃহস্থের হেঁশেল থেকে শুরু করে ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁ, সর্বত্রই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। গ্যাসের বদলে এখন কাঠের জ্বালানিতে রান্না হচ্ছে হোটেল, অফিস, মিড-ডে মিল, কারখানা সহ সর্বত্র।
তবুও এদিন সুজাতা শর্মা দাবি করেন, প্রায় ৯৩ শতাংশ অনলাইন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে করা বুকিং কমেছে। গতকাল ৫৫ লক্ষ বুকিং করা হয়েছিল। তাঁর দাবি সব রাজ্যেই পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গত এক সপ্তাহে রান্নার জন্য ১১,৩০০ টন বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে। এই সরবরাহের ৫০ শতাংশই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রায় ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা পর্যবেক্ষণ কমিটিগুলোও কাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৫০০টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশে প্রায় ১ হাজার ১০০টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোও ১ হাজার ৮০০টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছে। এলপিজি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক, তবে গ্রাহকদের গুজব উপেক্ষা করে যথাসম্ভব বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের চেষ্টা করা উচিত। তিনি আরও জানান যে, এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সমুদ্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ডিজি শিপিং ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ২২টি জাহাজ এবং ৬ জনেরও বেশি নাবিক সবাই নিরাপদে রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের হেল্পলাইনে প্রায় ১২৫টি কল এবং ২০০টিরও বেশি ইমেল এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একটি অভিযানের মাধ্যমে ২৫ জন ভারতীয়কে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশের কোনো বন্দরেই কোনো যানজট নেই। পণ্য নামানো ও চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী গতকাল পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ওমান, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, জর্ডান এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং ফলস্বরূপ শান্তি বজায় রাখার জন্য কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন নেতারা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌচলাচলের প্রতি তাঁদের সমর্থন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ওমানের সুলতানের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তাঁকে ও ওমানের জনগণকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’’
ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকে শুরু হয়েছে সঙ্কট। প্রত্যাঘাত করছে ইরানও। ফলে একুশ দিন ধরে চলছে যুদ্ধ।
Sujata Sharma
দেশে নাকি তেল-গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত! দাবি কেন্দ্রের
গ্যাসের বদলে এখন কাঠের জ্বালানিতে রান্না।
×
Comments :0