উন্নয়নের ডঙ্কা বাজছে ঠিকই, কিন্তু সেই চাকায় কার্যত পিষ্ট ধূপগুড়ি ব্লকের কয়েকশো ভূমিহারা। ফোর লেন রাস্তা তৈরির মানচিত্রের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে সনাতন মন্ডল, সুবোধ রায়, আব্দুল রহমান কিংবা রামকান্ত রায়ের মতো অজস্র মানুষের ভিটেমাটি। প্রশাসনের আশ্বাস ছিল, ঘর ছাড়ার আগেই মিলবে ক্ষতিপূরণ। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটা চূড়ান্ত বঞ্চনার। অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৪৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আজও এক পয়সাও ঢোকেনি।
প্রশাসনের তরফে নথিপত্র যাচাইয়ের গালভরা কথা বলা হলেও, বাস্তবে কেন টাকা পৌঁছাচ্ছে না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে। এই অচলবস্থার মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জমি আন্দোলনের নেতা আবু তাহের। তাঁর দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় থাবা বসিয়েছে একদল দালাল ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তাহেরের অভিযোগ, "গত ডিসেম্বরে তিন মাসের মধ্যে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু মানুষের অ্যাকাউন্টে রহস্যজনকভাবে টাকা ঢুকলেও বাকিরা ব্রাত্য। সরকারি দপ্তরে দিনের পর দিন জুতো ক্ষয় করলেও সুরাহা মিলছে না। অথচ দালালদের মাধ্যমে 'ঘুরপথে' যোগাযোগ করলেই কেল্লাফতে!"
বঞ্চনার অঙ্কটা আরও বিচিত্র। জমির প্লট বা 'শিট' ভাগ করে টাকা দেওয়ার নামে চলছে লুকোচুরি। ১ নম্বর শিটের হাতেগোনা কয়েকজন টাকা পেলেও ২ নম্বর শিটের কয়েকশো পরিবার আজ নিঃস্ব। বারবার জেলাশাসকের দপ্তরে কাগজপত্র জমা দিয়েও লাভ হয়নি। কৃষকদের ক্ষোভ, "দপ্তরে গেলে বলা হচ্ছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, অথচ বাস্তবে আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছায়নি। দালালদের ধরলেই নাকি কাজ দ্রুত হচ্ছে—এটাই কি স্বচ্ছ প্রশাসনের নমুনা?"
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দায় এড়ালেও ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে ধূপগুড়িতে। যদিও জেলার এক অধিকারীকের দাবি, নথিপত্র ও অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে ভিটেহারা মানুষের পাল্টা প্রশ্ন, সরকারি প্রক্রিয়ার এই 'মারপ্যাঁচ' আর কতদিন চলবে? দালালি চক্রের দাপটে কি সাধারণের প্রাপ্য টাকা এভাবেই আটকে থাকবে? ঘর হারিয়ে, জমানো পুঁজি খুইয়ে এখন উত্তরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ধূপগুড়ির নিঃস্ব পরিবারগুলি।
Dhupguri
উন্নয়নের চাকায় পিষ্ট ধূপগুড়ির কয়েকশো ভূমিহারা
ফাইল ছবি
×
Comments :0