বহুদিন ধরেই চলছিল অবৈধ কনস্ট্রাকশনের কাজ। এই বিষয়ে আগেই অভিযোগ জানিয়েছে সিপিআই(এম)। প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়নি যথাযথ ব্যবস্থ্যা। বুধবার সাংবাদিক সম্মলন থেকে তারাতল প্রসঙ্গে এমনই অভিযোগ জানালেন সেলিম। বুধবার দুপুরে তারাতলা নির্মিয়মান গোডাউন শেড ভেঙে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২১ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনার সময় বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নির্মাণকাজে নিযুক্ত ছিলেন। এখন পর্যন্ত আরও অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দুর্ঘটনার সময় নির্মাণস্থলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে উদ্যেশ্যে রওনা দিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এদিন সেলিম জানিয়েছেন,‘‘ ওখানে আমাদের প্রতিনিধি ফৈয়াজ আহমেদ খান গিয়েছেন। এই ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পোর্টের জমি কর্পোরেট সেক্টরকে লিজ দেওয়ার নাম করে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোর্ট সরাসরি কোন ইনকাম করে না, কোনো না কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়। সেখান থেকে ওই কোম্পানিগুলি কম পয়সায় লিজ নেয়। তারপর সেখানে গুদাম তৈরি হোক, ফ্যাক্টরি করা হোক কিনবা অন্যান্য কোম্পানিকে ভাড়ায় দেয়।
তাঁর অভিযোগ, গোটা স্ট্যান্ড রোড থেকে গার্ডেনরিচ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলছে। ভেঙে পড়া তারাতলার নির্মিয়মান গোডাউনের ধংসস্তুপে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। ওখানে অবৈধ কনস্ট্রাকশনে কাজ চলছিল পোটের জমিতে অবৈধ কনস্ট্রাকশন হচ্ছে বলে আমরা আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলাম। পোর্টে যাকে লিজ দেয়া হয়েছে তার দায়িত্ব এবং কর্পোরেশনেরও এই বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রয়েছে। এই বিষয়ে কোন দায়িত্ব পালন করেন আগের সরকার। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও তাই। আমরা অভিযোগ করার পরেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’
সেলিম অভিযোগ করে বলেন, পোর্টের বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে, যা মানুষের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল পোর্টের কাজের জন্য। যখন সেই সংক্রান্ত কাজ হচ্ছে না তখন তা মানুষের কাছে জমি ফিরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। শুধুমাত্র প্রাইভেট কোম্পানিগুলিকে পলিটিক্যাল বেনিফিট দেওয়ার জন্য বন্দরের জমি লিজ দেয়া হচ্ছে নন- পোর্ট রিলেটেড কাজের জন্য। পোর্টের জমি ছিল জমিদারদের, সেই জমি লিজ দিয়ে ইনকাম করা হচ্ছে।’’
Comments :0