Editorial

গণহত্যার সঙ্গী

সম্পাদকীয় বিভাগ

ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গণহত্যাকারী দেশ হিসাবে সবচেয়ে কুখ্যাত ইজরায়েলের সহযোগী হিসাবে অভিযুক্ত হয়েছে ভারত। প্যালেস্তাইনের গাজা ভূখণ্ডে গত চার-পাঁচ বছর ধরে টানা যে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল তাতে সাহায্য ‍‌ও সহযোগিতা করেছে নরেন্দ্র মোদীর শাসনাধীন ভারত। গাজায় গণহত্যার নায়ক হিসাবে সারা বিশ্বে ধিক্কৃত ও ঘৃণিত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানেয়াহু। আর সেই নেতানেয়াহুর সঙ্গেই মোদীর সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্টতা। ইজরায়েল তথা নেতানেয়াহু গণহত্যাকারী হিসাবে চিহ্নিত রাষ্ট্রসঙ্ঘে। আন্তর্জাতিক আদালত গহত্যার অভিযোগে নেতানেয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।
গাজায় লাগাতার নির্বিচারে ‍‌শিশু-মহিলা সহ ‍‌নিরীহ সাধারণ মানুষ হত্যার জন্য ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রায় সব দেশে, সব শহরে মানুষ প্রতিবাদে মুখর হয়েছেব। ইজরায়েলকে মানব সভ্যতার সবচেয়ে অমানবিক ও ধ্বংসকারী দেশ হিসাবে কাঠগড়ায় তুলেছে বিশ্বের শান্তিকামী মানবিক চেতনাসম্পন্ন মানুষ। এমনকি ইউরোপের যে সব দেশ এতকাল ইজরায়েলের সমর্থক ও সাহায্যকারী বলে পরিচিত সেইসব দেশ এমন বর্বরতা ও নৃশংসতা দেখে মুখ ঘরিয়ে নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেৃতত্বে একমাত্র আমেরিকা ছাড়া গণহত্যাকারী ইজরায়েরেলের পাশে আর কোনও শক্তিশালী বা প্রভাবশালী দেশ নেই। বস্তুত আমেরিকার আর্থিক সামরিক ও কূটনৈতিক সাহায্য ও সহযোগিতার কারণেই ইজরায়েল এখনও টিকে আছে এবং সদম্ভে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।
এহেন একটি দেশের প্রতি আরএসএস-বিজেপি সরকারের এত দরদ ও ভালোবাসা সত্যিই বিস্ময়কর ও সন্দেহজনক। একটা জায়গায় অবশ্য এই তিনটি দেশের মিল আছে। তিন দেশেরই বর্তমান শাসক ফ্যাসিস্ত মানসিকতাসম্পন্ন অতি দক্ষিণপন্থী। অনেকটা চোরে চোরে মাসতুতো ভাইয়ের মতো। ইজরায়েল যখন গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সানন্দে ইজরায়েল সফরে গিয়ে ইজরায়েলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। এমনকি ইজরায়েলের সংসদে ভাষণ দিয়ে ইজরায়েলকে পিতৃভূমি এবং ভারতকে মাতৃভূমি হিসাবে ঘোষণা করেছে। একটা গণহত্যাকারী দেশের সঙ্গে ভারতের মতো ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী দেশকে অত্যন্ত কদর্যভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন প্যালেস্তাইনের জন্য লড়াই করা হামাসকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে ইজরায়েল সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে গাঁজা গণহত্যা করছে দাবি করছে। মোদী ইজরায়েল ঘোষিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইকে সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থাৎ পরোক্ষে গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং প্যালেস্তাইনের মুক্তি সংগ্রামের বিরোধিতা করা হয়েছে। এটা ভারতের ঘোষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্যালেস্তাইন নীতির পরিপন্থী। এখানেই শেষ নয়, গণহত্যা চলাকালীন দীর্ঘ সময়ে ভারত ইজরায়েলকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি সরবরাহ করে গেছে। ভারতের পাঠানো সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার হয়েছে গাজায় শিশু-মহিলা সহ নিরীহ মানুষ খুনে।

Comments :0

Login to leave a comment