পাটের বাজারে নজিরবিহীন মূল্যপতনে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকার পাটচাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ লাগামছাড়া হারে বেড়ে গেলেও বাজারে পাটের দাম অস্বাভাবিক ভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃষক সংগঠন গুলির অভিযোগ, মাত্র দু'মাসের ব্যবধানে এক মন পাটের দাম প্রায় ১৭ হাজার টাকা থেকে নেমে ৭ হাজার টাকার আশেপাশে চলে এসেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টে চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
কৃষকদের বক্তব্য, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, কৃষিযন্ত্রের ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গত কয়েক বছরে ব্যয় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এই বিপুল খরচ বহন করে পাট উৎপাদনের পর বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন। ফলে একদিকে যেমন ঋণের বোঝা বাড়ছে, অন্যদিকে আগামী মরশুমে বহু কৃষক পাটচাষ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও ভাবছেন।
ধূপগুড়ির পাটচাষি মজেন রায়ের অভিযোগ, কৃষকদের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলের এমন মূল্যপতনের পরেও রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারেরই কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তাঁর কথায়, পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে পাটচাষ আরও সংকুচিত হবে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পাটশিল্পের ওপর।
এই পরিস্থিতিতে সারা ভারত কৃষক সভা অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে। সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রাণ গোপাল ভাওয়াল বলেন, পাটের লাভজনক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পর্যাপ্ত পরিমাণে পাট কেনার ব্যবস্থা, দালাল ও মজুতদার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত পাটচাষিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও অনুদান ঘোষণা এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষিপ্রধান পশ্চিমবঙ্গে পাটচাষিদের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। পাটচাষিদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান রক্ষায় অবিলম্বে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের পথে এগিয়ে আসাতে হবে।
সংগঠনের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে উত্তরবঙ্গের পাটচাষে গভীর সংকট তৈরি হবে এবং তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে রাজ্যের কৃষি ও পাটভিত্তিক অর্থনীতিতে।
North Bengal Jute Farmers
নজিরবিহীন মূল্যপতন, সংকটে উত্তরবঙ্গের পাট চাষিরা
×
Comments :0