JOURNEY — SUMAN CHATARJEE — BEDESHAR / TEN SHAHARER ITIKATHA — MUKTADHARA — 2026 APRIL 25, 3rd YEAR

ভ্রমণ — সুমন চ্যাটার্জী — বিদেশের / তিন শহরের ইতিকথা — মুক্তধারা — ২০২৬ এপ্রিল ২৫, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

JOURNEY  SUMAN CHATARJEE  BEDESHAR  TEN SHAHARER ITIKATHA  MUKTADHARA  2026 APRIL 25 3rd YEAR

ভ্রমণ

মুক্তধারা

বিদেশের / তিন শহরের ইতিকথা
 

সুমন চ্যাটার্জী 

২০২৬ এপ্রিল ২৫, বর্ষ ৩

 

প্রাগ: সবকিছুই দেখাযায়, শুধু ইতিহাসটা ছাড়া

সুন্দরী প্রাগ শহর নিজেকে একেবারে নিখুঁতভাবে সাজিয়ে রাখে, এমনভাবে, যেন অস্বস্তিকরকোন অতীত এখানে কখনও স্থায়ী হয়ে ওঠেনি। প্রথম নজরে সবকিছুই একেবারে পরিষ্কার-পরিপাটি, প্রায় পোস্টকার্ডের মতন সুন্দর এবং ঝাঁ চকচকে।

কিন্তু খানিক সময় কাটালেই খুব ভালভাবে বোঝা যায়, এই ফটো ফিনিশ সৌন্দর্যের পিছনে খুবই সতর্কভাবেঢেকে রাখা আছে এমন কিছু রং এবং স্তর এবং ইতিহাস যা আসলে শহরটির একান্ত অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বার্সেলোনার স্বপ্নালু উজ্জ্বলতাপেরিয়ে এসে ২০২৩ এর আগস্ট এর মাঝামাঝি এসে পৌঁছালাম প্রাগ-এ।

শহরটি প্রথম নজরে শান্ত ও প্রায় নির্লিপ্ত।না কোন চোখ ধাঁধানো স্মারক, না কোন কিছু এক নজরেই চোখে পড়ার মত, না কোন সরাসরি ইঙ্গিত। হোটেলের ঠিক পাশেই এক ছোট্ট অ্যান্টিকেরদোকান, কাঁচের ভিতর সাজানো, সেই-চেকোস্লোভাকিয়া আমলের ব্যাজ, মেডেল, কয়েন ইত্যাদি। এইগুলো চড়া দামে বিক্রি হয় কিন্তু ক্রেতা বা বিক্রেতা কেউই যেন সেগুলির ইতিহাস নিয়ে কোন উৎসাহ দেখায় না, বরং কেমন একটা অদ্ভুত উদাসীনতা।

প্রাগ প্রথমে নিজে কিছুই বলেনা, ধীরে-ধীরে বোঝা যায় দৃশ্যমান শহরের পিছনে রয়েছে এক অদৃশ্য স্তর এবং সেটা যথেষ্টই সরব এবং অসাধারণ। বেশ খানিকটা সময় কাটানোর পর ধীরে-ধীরে বোঝা যায় এই নীরবতা একেবারেই আকস্মিক নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে শহর ক্রেমলিনের প্রভাববলয়এর মধ্যে থেকে পরবর্তী কয়েক দশক ধরে নিজেকে নতুন ভাবে এক রাজনীতির ছকে গড়ে তুলেছিল, যাঁর বিপরীতে ছিল হোয়াইট হাউস এর নেতৃত্বে সমগ্র পুঁজিবাদীবিশ্ব। সেই দ্বিমেরু বিশ্বের টানাপোড়েন এবং টেনশন কেবলমাত্রসীমান্ত, সিনেমা, বই এর পাতা, রাজনীতি ও কূটনীতির মধ্যেই সীমিত ছিল না, তা ঢুকে পড়েছিল শহরের নকশায়, স্থাপত্যেএমনকি তার দৈনন্দিন যাপনের মধ্যেও।

প্রাগ শহরের প্রতিটি রাস্তা, ফুটপাত এবং অসংখ্য সমকালীন বাড়িগুলিরপ্রতি ইঞ্চিতে সেই ছাপ আজও রয়ে গেছে, কিন্তু সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষে, ছায়ার মতন। সোভিয়েত আমলের 'হোটেল দুজবা' (বন্ধুত্ব), যার বিল্ডিংটি অনিন্দ্য সুন্দর সোশ্যালিস্টরিয়‍্যালিস্টিক স্থাপত্যশৈলীর এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, যাঁকে আজ দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে 'হোটেল ইন্টারন্যাশনাল' নামে। কিন্তু হোটেল বিল্ডিং এর চূড়ার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, একদিন এই শহরের দিগন্তেও ছিল এক মতাদর্শেররক্তিম আভা।

জিঝকভ টিভি টাওয়ার, তাঁর অস্বস্তিকরউচ্চতা নিয়ে যেন প্রযুক্তিরভাষায় একই বার্তার পুনরাবৃত্তিকরে। শহরের বর্তমান কেন্দ্র থেকে একটু দূরে গেলেই কংক্রিটের একের পর এক অবিশ্বাস্য সামঞ্জস্যপূর্ণ আবাসনের সারি, 'প্যানেলাক', সমতার এক স্বপ্নের যান্ত্রিকবাস্তবায়ন যেন। এই সবকিছু মিলিয়ে প্রাগকে পড়তে হয়, শুধুমাত্র দেখে নয়, বরং বুঝে। কারণ, এখানে যা দৃশ্যমান, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কীভাবে এবং কেন কিছু জিনিস চোখের সামনে থেকেও যেন লুকানো।

চলবে

Comments :0

Login to leave a comment