GENERAL KNOWLEDGE — NATUNPATA | Krishi Mela Bangalore Gkvk | TAPAN KUMAR BIRAGAYA | 24 APRIL 2026

জানা অজানা | নতুনপাতা | ভারতের সবচেয়ে বড় কৃষিমেলা | তপন কুমার বৈরাগ্য | ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নতুনপাতা/মুক্তধারা

GENERAL KNOWLEDGE  NATUNPATA  Krishi Mela Bangalore Gkvk  TAPAN KUMAR BIRAGAYA  24 APRIL 2026

জানা অজানা || নতুনপাতা

ভারতের সবচেয়ে বড় কৃষিমেলা


তপন কুমার বৈরাগ্য

ভারত কৃষিপ্রধান দেশ।এ দেশে এখনো শতকরা ৭০ভাগ মানুষ কৃষিজীবি।জীশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৯০০০হাজার বছর আগে ভারতের কৃষির সূচনা।ভারতের কৃষির ইতিহাস তাই সুপ্রাচীন।
ভারত এক নদীমাতৃক দেশ।এই দেশের কতো নদীর তীরে প্রাচীন সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে।তাদের মধ্যে কিছু সভ্যতা ছিল গ্রামকেন্দ্রিক এবং কিছু সভ্যতা ছিল শহরকেন্দ্রিক।
ভারতের উল্লেখযোগ্য কৃষিজ ফসলগুলো হলো ধান,গম,চা, কফি,জোয়ার,বাজরা।তা ছাড়া ডাল জাতীয় ফসলও এখানে প্রচুর পরিমাণে জন্মায়।ভারতের লোকসংখ্যা দিনের পর দিন
বেড়ে যাচ্ছে।কৃষিবিজ্ঞানীরাও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের গবেষণা লব্ধ ফলের সুফল যাতে সাধারণ মানুষ পান, তার জন্যই তো ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিমেলা অনুষ্ঠিত
হয়। ভারতের সবচেয়ে বড় কৃষিমেলা হলো কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী ব্যাঙ্গালুরুতে। ব্যাঙ্গালুরুতে জিকেভিকে গ্রাউন্ডে আয়োজিত কৃষি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কৃষিমেলা।
এটা এশিয়ার বৃহত্তম কৃষিমেলা।এই মেলা চারদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়।বিরাট এক জায়গা জুড়ে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।প্রতিদিন প্রায় কুড়ি লক্ষ লোকের সমাগম হয় এই মেলায়।এটা একটা
বার্ষিক কৃষিমেলা।এটা অনুষ্ঠিত হয় গান্ধী কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে। ভারতের সেরা কৃষিবিজ্ঞানীরা এই মেলায় উপস্থিত থাকেন। কৃষকদের আধুনিক চাষবাস সম্বন্ধে বিনা পারিশ্রমিকে পরামর্শ
দেওয়া হয়।তাছাড়া নতুন ফসল, তৈলবীজ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়। এই মেলায় কৃষক ছাড়াও প্রত্যেক দিন লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের সমাগম হয়।এই কৃষিমেলা প্রাঙ্গণ ১৩০০থেকে ১৩২০একর
জায়গা জুড়ে আছে।আয়তনে প্রায় ৫.৩ বর্গকিমি। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ই জুলাই এই গান্ধী কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে এখানে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে
চারদিন ধরে কৃষিমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। নতুন প্রযুক্তি,উন্নত কৃষিজ পণ্য এই মেলায় প্রদর্শিত হয়।সেরা ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের পুরস্কৃত করা হয়।এই মেলায় গবাদি পশুর প্রদর্শন খুবই আকর্ষনীয় বিষয়।
বিশেষ বিশেষ কিছু গবাদি পশুর দাম নিলামে কোটি টাকা পর্যন্ত ওঠে।ভারতের প্রায় সব রাজ্য থেকেই গবাদি পশু এনে এখানে প্রদর্শিত হয়।সেই সাথে বিভিন্ন রাজ্যের কৃষিপণ্যওএই মেলায় প্রদর্শিত হয়।
খাদ্য রসিকদের জন্য পৃথিবীর সব দেশের মুখরোচক খাদ্যও এখানে পাওয়া যায়।প্রত্যেক রাতে থাকে দেশবিদেশের লোকসংগীত ও লোকনৃত্য।সেইসাথে বিভিন্ন রাজ্যের যাত্রা শিল্পকেও এখানে তুলে ধরা হয়।  বিভিন্ন রাজ্যের
শ্রমজীবি মানুষেরা এখানে তাদের সুন্দর সুন্দর হাতের কাজের ডালি সাজায়।
আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার মাটিতীর্থ কৃষিমেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্ধমান জেলার শ্রীরামপুর কৃষিমেলার কথা সারা ভারতের লোক জানেন। কৃষিমেলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে শেষ করা যায় না। 

Comments :0

Login to leave a comment