মাত্র এক ঘণ্টার বিধ্বংসী ঝড় আর নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টিতে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের মধ্য খট্টিমারি এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতভর চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উত্তরবঙ্গের এই কৃষিপ্রধান এলাকার আলু খেত এখন জলের তলায়। এই বিপর্যয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শুক্রবার সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা গেল হাহাকারের ছবি। মাঠের পর মাঠ এক হাঁটু জলের নিচে। বিঘার পর বিঘা জমি থেকে শ্রমিক দিয়ে যে আলু তোলা হয়েছিল, সেই আলুর প্যাকেটগুলো এখন মাঠের জলে ভাসছে। স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক ও আমিরুল ইসলামরা জানালেন, শিলাবৃষ্টির তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের শিলের আঘাতে আলুর প্যাকেট ফেটে গিয়েছে এবং গাছ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। একবার আলু জলে ভিজে গেলে তা পচে যাওয়া নিশ্চিত, ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ভারে কার্যত নুইয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বিঘা প্রতি আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। বেশিরভাগ চাষিই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে বা মহাজনের থেকে চড়া সুদে টাকা ধার করে চাষ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন ঋণ শোধ তো দূর, সারা বছর কী খেয়ে বাঁচবেন সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে পরিবারগুলোর।
প্রকৃতির মার শুধু ফসলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিলাবৃষ্টিতে এলাকার বহু কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ির টিনের চাল চালুনির মতো ফুটো হয়ে গিয়েছে। গৃহহীন পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে সরকারি সমীক্ষা চালিয়ে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় অনাহার আর ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হওয়া ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
Dhupguri
কালবৈশাখী- শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ধূপগুড়ি, জলের তলায় আলু খেত
×
Comments :0