মিড ডে মিল কর্মীদের ভাতার নিরিখে দেশে একেবারে ওপরের সারিতে কেরালা। সব মিলিয়ে মাসে ১২ হাজার টাকা ভাতা পান কেরালার মিড ডে মিল কর্মীরা।
রাজ্যসভায় সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই বাস্তবতা স্বীকার করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত ‘প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ‘ প্রকল্পে দেওয়া হয় মিড ডে মিল। কেন্দ্রীয় প্রকল্প হলেও কেরালায় একেকজন মিড ডে কর্মীর এই ভাতার মধ্যে মাত্র ৬০০ টাকা দেয় কেন্দ্র।
কেরালার বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার জানিয়েছে রাজ্যসভায় যে অর্থের উল্লেখ সরকার করেছে তার চেয়েও বেশি পান এই কর্মীরা। মাসে ২০টি কাজের দিন ধরে দৈনিক ৭৫ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে কার্যত ভাতার অঙ্ক ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।
সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের প্রশ্নে লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী সব রাজ্যেরই মিড ডে কর্মীদের ভাতার হিসেব দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মিড ডে কর্মীদের করুণ ভাতার অঙ্কও ধরা পড়েছে এই তালিকাতেই।
পশ্চিমবঙ্গে মিড ডে কর্মীদের মূল ভাতা মাসে ২ হাজার টাকা। রাজ্য সরকার অতিরিক্ত দেয় মাত্র ১ হাজার টাকা।
কেরালা তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গের ভাতার অঙ্ক অন্য একাধিক রাজ্যের তুলনায় কম। রাজ্যে মিড ডে মিল কর্মী সংগঠন সঙ্গত ভাতার দাবিতে বারেবারেই রাস্তায় নেমেছে।
উত্তর পূর্ব বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বাদে বাকি সব রাজ্যে এই প্রকল্পে ভাতার ৬০ শতাংশ দায় নেয় কেন্দ্র। বাকি ৪০ শতাংশ দায়িত্ব রাজ্যের। মূল প্রকল্পে বছরে ১০ মাসের জন্য মাসিক মাত্র ১ হাজার টাকা ভাতা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্র একেকজন কর্মীর জন্য মাত্র ৬০০ টাকা খরচ করেই দায় সারছে।
কিন্তু অনেক রাজ্যই নিজেদের কোষাগার থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে ভাতার অঙ্ক কিছুটা বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের থেকে অন্ধ্র প্রদেশে ভাতা ৩ হাজার টাকা। হরিয়ানায় মূল ভাতা ৭ হাজার টাকা। ঝাড়খণ্ডে ভাতা ৩ হাজার টাকা। কর্ণাটকে ৩৭০০।
কেরালার সঙ্গে তুলনীয় রাজ্য কেবল তামিলনাডু। এই রাজ্যে বিভিন্ন স্তর ভাগ করে ৪ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু কেরালার মতো সব কর্মীকে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় না।
শিক্ষা মন্ত্রক রাজ্যসভায় জানিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ প্রকল্পে ১১ কোটি শিশু ও কিশোরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত এই প্রকল্পে ‘কুক কাম হেল্পার‘ নিয়োগ সহ রূপায়নের দায়িত্ব রাজ্যের।
মন্ত্রকের বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিযুক্ত এই পাচক-সহায়কদের জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকার মাত্র ১ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। তা-ও বছরে ১০ মসের জন্য। তবে রাজ্য সরকার চাইলে ভাতা বাড়াতে পারে। এই ১ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ দিতে হবে রাজ্যকে। কেন্দ্র দেবে বাকি ৬০ শতাংশ। তবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৯০ শতাংশ দায়িত্ব কেন্দ্রের। উত্তর পূর্বেও কেন্দ্রের দায় বেশি।
Mid Day Meal honorarium
মিড-ডে-মিল কর্মীদের ভাতায় শীর্ষে কেরালা, তলায় পশ্চিমবঙ্গ
×
Comments :0