Md Salim Jalpaiguri

অসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে নতুন সরকারের ওপর, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান সেলিমের

রাজ্য জেলা

জলপাইগুড়ির কর্মীসভায় মহম্মদ সেলিম। ছবি: প্রবীর দাশগুপ্ত

দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনকে ব্যবহার করে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি চালিয়েছে। মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু তৃণমূলের বিদায় মানেই সমস্যার সমাধান নয়। বর্তমানে রাজ্যে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নীতিতেও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
শনিবার জলপাইগুড়ি কর্মীসভায় এই কথাগুলি বলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সেলিম বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ যেমন জমা হয়েছিল, তেমনই বর্তমানে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী পদক্ষেপের ফলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক, কৃষক, চা-শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সমস্ত পরিশ্রমী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শীতের আগে দেখবেন অনেক পোকামাকড় জুটে যায়। কিছু লাইটে বসে, কিছু ঘাড়ে এসে বসে। কিছু পাঞ্জাবি দিয়ে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা তাড়াতাড়ি করে সেই পোকা ঝেড়ে ফেলি। দেখি না ওটা কোথায় গিয়ে পড়ছে। মানুষ তৃণমূলকে এবারের নির্বাচনে সেভাবেই ঝেড়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই বলেছিলাম তৃণমূল কোন রাজনৈতিক দল নয় কিছু চোর একসাথে হয়ে কংগ্রেস দল ভেঙে মমতা ব্যানার্জি ফ্যান্স ক্লাব বানিয়ে  তাদের করে খাওয়ার প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত করতে সমগোত্রীয় কিছু লোকজনকে নিয়ে একটা কোম্পানি তৈরি করেছে। সেই কোম্পানির ছোটবাবু বড়বাবু অনেকে ছিলেন। ভোটে হারার পর থেকে তাদের আর রাস্তায় দেখা মিলছে না। 
শনিবার জলপাইগুড়ি শহরের রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠিত হয় সিপিআই(এম) জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির এই কর্মীসভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সলিল আচার্য। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউল আলম, জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকেরা। সভাস্থল ছাড়াও রবীন্দ্রভবনের বারান্দা ও চত্বরে বহু মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
জেলার বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, চা-বাগান অঞ্চল, ডুয়ার্সের জনপদ, কৃষি এলাকা, শহর ও গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ তাঁদের সমস্যা নিয়ে বামপন্থী নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। চা-শ্রমিকদের মজুরি, কৃষকদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, যুবকদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবার সংকট, শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি, নদী থেকে বালি-পাথর উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের সমস্যা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। এই মানুষকে সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি করাই এখন প্রধান কাজ বলে তিনি জানান।
তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উভয় শক্তিই একে অপরকে আক্রমণ করার ভান করে বাস্তবে বিভাজনের রাজনীতিকে শক্তিশালী করেছে। ধর্মীয় মেরুকরণ, জাতিগত বিভাজন এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই রাজনীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষই। তিনি বলেন, ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার পর গরিব, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের ওপরই প্রশাসনিক আক্রমণ নেমে এসেছে।
রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউল আলম বলেন, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান চেয়েছিল মানুষ। কিন্তু নতুন সরকারও হকার উচ্ছেদ, রেল কলোনি ও বস্তি এলাকায় বুলডোজার অভিযান এবং বিভিন্ন উচ্ছেদ কর্মসূচির মাধ্যমে গরিব মানুষের জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment