Salim's Letter to EC

‘কারা এসআইআর’র প্রশংসা করেছে জানান‘, জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি সেলিমের

রাজ্য

কমিশনে মহম্মদ সেলিম, শমীক লাহিড়ী সহ সিপিআই(এম)’র প্রতিনিধিদল।

কোন কোন রাজনৈতিক দল এসআইআর’র প্রশংসা করেছে আর বিরোধিতা করেছে কারা তা নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে। ‘অধিকাংশ রাজনৈতিক দল’ এই প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে, এমন বিবৃতি সত্যের মারাত্মক বিকৃতি।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে এই দাবি তুলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। 
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ সদস্য দল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসেন রাজ্যে। গত মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। প্রেস বিবৃতিতে বলা হয় যে ‘অধিকাংশ রাজনৈতিক দল’ বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে‘। (দেখুন চিঠি এই লিঙ্কে)
সেলিম কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, ‘‘কিন্তু কোন কোন রাজনৈতিক দল এই প্রশংসা করেছে এবং কোন কোন দল এর বিরোধিতা করেছে—সেই নামগুলি গোপন রাখা সত্যের মারাত্মক বিকৃতি।’’ তিনি লিখেছেন, ‘‘সিপিআই(এম) ধারাবাহিকভাবে লিখিতভাবে এবং কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে মৌখিক উপস্থাপনায় এই বিষয়ে তার গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে। সুতরাং, আপনার মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আমাদের নথিবদ্ধ আপত্তিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে এমন একটি বিবৃতি জারি করেছে—এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর।’’ 
এসআইআর-কে ঘিরে সিপিআই(এম)’র বিরোধিতার তিনটি মুখ্য বিষয়কে চিঠিতে যুক্ত করেন সেলিম। ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’-র নামে মানুষের হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন,‘‘‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথাকথিত যৌক্তিক অসঙ্গতির অজুহাতে প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করার যে স্বেচ্ছাচারী পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটার তাদের মৌলিক ভোটাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।‘‘
সেই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিআই(এম)। 
প্রশাসনিক ব্যর্থতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘‘এসআইআর নথি যাচাইয়ের উপর বিচার বিভাগের নজরদারির যে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তারই ফল। স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বিরল, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কিছু আধিকারিক—যারা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অনুগামী হিসেবে কাজ করছেন—তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধান প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।’’
সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা দাবি জানাই যে কোনও যোগ্য ভোটারকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে, কিংবা আর্থিক অবস্থার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আরএসএস–বিজেপি জোটের আদর্শগত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যদি ভোটার তালিকা সাজানোর কোনও চেষ্টা করা হয়, তবে তা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।’’
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ঐকমত্যের দাবি তুলে নির্বাচন কমিশন শুধু নিজের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং ভারতের সংবিধানের মর্যাদাকেও আঘাত করছে।’’
সর্বজনীন ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশেই আন্দোলনে রয়েছে সিপিআই(এম)। পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম) প্রতিদিনই প্রচারে বলছে যে আরএসএস’র চিন্তার অনুসারী হয়ে হুবহু সেই চিন্তাকে প্রয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। সর্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এসআইআর-কে। বিভিন্ন অংশকে নির্দিষ্ট করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকার। তার মধ্যে সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি রয়েছেন তফসিলি জাতি, মতুয়া, আদিবাসী মানুষ। সমাজের সব অংশই এই হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিবাহিত মহিলাদের পদবি বদলকে কেন্দ্র করে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
সেলিম কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, ‘‘সিপিআই(এম) এই ভ্রান্ত তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদে অটল রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার রক্ষার জন্য দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। আমরা কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাই, এই অবস্থান সংশোধন করুন এবং একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করুন।’’

Comments :0

Login to leave a comment