মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ‘জুলাই অভ্যুত্থানের‘ পর গঠিত যুবভিত্তিক দলটি মাত্র ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে।
রবিবার নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের ভোটের হার প্রকাশ করেছে। এনসিপি পেয়েছে ৩.০৫ শতাংশ ভোট। ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ঘিরে যে কমবয়সী অংশ সমবেত হয়েছিল তার একাংশ পরে নতুন দল এনসিপি গড়ে।
দলের কিছু সমর্থক মনে করছেন, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ জামাতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তই তাদের ভোট কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
এদিন নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট। ২৯০ আসনে দলটির প্রার্থী ছিল। অন্যদিকে জামাতে ইসলামি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট। তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে। এই জামাতের নেতৃত্বে ১১ দলের জোটে শরিক ছিল এনসিপি।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে আশা ও স্বপ্ন দেখেছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামাতের সঙ্গে এনসিপির জোট আমাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো লেগেছে। আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটার তাই তাদের সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, এই জোট তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, যারা নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রত্যাশা করেছিল।
তাঁর বক্তব্য, ‘নতুন কিছু শুরু করার পরিবর্তে অনেকেই এটিকে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এই সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটকে বিভক্ত করেছে এবং তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও শাসনক্ষম মনে হওয়া বিএনপি’র প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে জামাতের দাপাদাপি কারও চোখ এড়ায়নি। উগ্র ইসলামিক ভাবধারার প্রচারক এই দল এবার নির্বাচনে একটিও কেন্দ্রে কোনও মহিলাকে প্রার্থী করেনি। সংখ্যালঘু বিদ্বেষের প্রচার এবং দল বেঁধে উন্মত্ত মারধরের একাধিক ঘটনায় জামাতকে দায়ী করেছে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শরিক অন্য বিভিন্ন শক্তি। দেখা গিয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খর্ব করার প্রয়াসও। এই কর্মকাণ্ডে যে বাহিনীকে নামানো হয়েছে তার সঙ্গে এনসিপি’র যোগাযোগ অনেকের চোখ এড়ায়নি।
২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয়ী হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি দুই দশক পর ফের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এখন তাঁর পুত্র তারেক রহমানের কাঁধে। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনিই হতে যাচ্ছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
অপরদিকে জামাতে ইসলামি পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামাতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন।
এদিকে গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। গণভোটে বাতিল করা ব্যালট পেপারের সংখ্যাও বিপুল, ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
Comments :0