এক সপ্তাহ, দু সপ্তাহ নয়, টানা তিন মাস ধরে কোচবিহার জেলা পরিষদ অফিসে আধিকারিক, কর্মীরা আসছেন।কিন্তু কারো কোন কাজ নেই! সভাধিপতি থেকে কর্মাধক্ষ্যদের রুমগুলো তালা বন্ধ। অলস দিন কাটাচ্ছে গোটা অফিস।
কার্যত কর্মহীন গোটা অফিস। অর্থ বরাদ্দ নেই। উন্নয়ন কাজের কোন মিটিং নেই। কোন নতুন টেন্ডারের নোটিশ নেই। ঠিকাদারদের আনাগোনা নেই। দু একজন ঠিকাদার আসছেন খোঁজ নিয়ে যাচ্ছেন কবে মিলবে বকেয়া টাকা।আর চাকরীর পরীক্ষা থেকে নানা স্কলারশীপের ফর্মে সই নিতে এসে সই না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে পড়ুয়া থেকে বেকার যুবকেরা।
এটাই এখন রোজনামচা কোচবিহার জেলা পরিষদের।মিলছে না কোন পরিষেবা। জেলার ১২৮ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ছে। রাজ্যের শাসক দল বিজেপি রোজই জেলার কোন না কোন গ্রাম পঞ্চায়েত আর পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিচ্ছেন পেছন দরজা দিয়ে। জেলা পরিষদ কবে ভোট ছাড়াই দখল নেবে বিজেপি সেটা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।
কোচবিহার জেলার পরিষদের ৩৪ আসনের মধ্যে ৩২ আসন ভোটকে প্রহসনে পরিনত করে দখল নিয়েছিল তৃনমুল। বাকি দুই আসনে জিতেছিল বিজেপি। সভাধিপতি আছেন, আর আছেন ১১জন কর্মাধক্ষ্য।সবাই তৃণমূলের। ভোটের পর কেউই আর অফিস মুখো হন নি। সবাই বেপাত্তা। অফিসের এক কর্মী জানালেন ফল প্রকাশের পর সভাধিপতি আর সহকারি সভাধিপতি দু একদিন এসেছিলেন। তারপর চারদিকে ডিম থেরাপি শুরু হতেই তারাও আর এ মুখো হন নি।
জেলার যে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে একজনও বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য নেই সেখানে বসানো হচ্ছে প্রশাসক। আর যেসব গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতিতে দু একজন বিজেপির জয়ী সদস্য ছিলেন তারাই প্রধান কিংবা সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে তবে কি জেলাপরিষদেও বিজেপি দুজনই সভাধিপতি আর সহকারি সভাধিপতি হবেন? নাকি প্রশাসক বসবে।বিজেপির একাংশ চাইছে তৃণমূলের সদস্যদের ভাঙিয়ে নিজেদের দিকে নিতে। আর এসবের মাঝেই তিন মাস ধরে জেলার গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের ভরকেন্দ্র জেলাপরিষদ অচল হয়ে আছে।
বিজেপির অন্দরের খবর প্রথমে তৃণমূলের সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই হিসেবে তৃণমূলের জেলাপরিষদ সদস্যদের একজোট করার কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুজন সদস্য নিয়ে ৩৪ আসনের জেলাপরিষদের দখল নিলে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখবে না। তাই আপাত ধীরে চলো নীতিতে চলছে জেলা বিজেপি। আর ক্ষমতা নিয়ে এই লড়াইয়েই ঘোর বর্ষার মধ্যেও ভাঙন ঠেকানো, রাস্তা নিকাশি সংস্কার, সেতু মেরামতের মত গুরুত্বপূর্ন কাজও থমকে রয়েছে।
কৃষকসভার জেলা সভাপতি বিপীন শীল বলেন, "২০১১ সালের রাজনৈতিক পালা বদলের পর তৃণমূল একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি দখল নিয়েছিল।এখন বিজেপিও সেটাই করছে। মানুষ সব দেখছে। জেলা পরিষদ দখল নিক বা প্রশাসক বসুক সবটাই তো অগনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে। চূড়ান্ত দলবাজী চলছে প্রশাসনের সব স্তরে। সাধারন মানুষের কথা ভাবছে না বিজেপি।"
Coach bihar zilla parishad
কার্যত অচল কোচবিহার জেলা পরিষদ, মুখ থুবড়ে পড়ছে উন্নয়ন
×
Comments :0