ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই আবেদনটি দায়ের করেছেন। আরও দাবি জানানো হয়েছে , অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই জ্ঞানেশ কুমার যেসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা জারি এবং সফটওয়্যারে পরিবর্তন এনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হোক। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক ও মিডিয়া রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। ওই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এবার নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই মামলা বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠী সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আবেদনে এসআইআর এবং ভোটার তালিকার পরিবর্তন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলো তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনকারী আরও অভিযোগ করেছেন, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সম্মতি ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদের অধীনে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা এই আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার বিরুদ্ধেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ নম্বর ধারায় অভিযোগ ও তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলাকারীর আরও যুক্তি, ২০২৩ সালের আইনে নির্বাচন কমিশনারদের সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং মতভেদ দেখা দিলে কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে গুরুত্ব দিতে হয়। সেই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনি সুরক্ষা প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয় বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩-এর ১৮ ধারাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
আবেদনে এসআইআর চলাকালীন প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী নভেম্বর ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি বা মন্তব্য জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মতামত ও আইনি সংস্থান সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে এই পরিবর্তনগুলি কার্যকর করেন। এর মধ্যে ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভোটারদের নাম সংযোজন, বিয়োজন বা পুনর্বহাল সম্পর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আবেদনকারী যুক্তি দিয়েছেন, আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই প্রাধান্য পাবে।
Supreme Court Gyanesh Kumar
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা
×
Comments :0