SFI Kolkata

আক্রমণের মুখেও কলকাতার স্কুলে কলেজে ইউনিট গড়ছে এসএফআই

কলকাতা

কলকাতায় সাউথ সিটি কলেজের সামনে জমায়েতের একাংশ।

বিভাজনের রাজনীতি, শারীরিক আক্রমণ প্রতিদিন। তার মোকাবিলা করছে এসএফআই। শিক্ষা আর কাজের অধিকারের দাবিতে সমবেত করছে ছাত্রছাত্রীদের। 
এসএফআই কলকাতা জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে সেই অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলা সভাপতি বর্ণনা মুখার্জি এবং সম্পাদক দীধিতি রায়। (দেখুন ভিডিও)
বুধবার কলকাতার সাউথ সিটি কলেজের সামনে হয় সমাবেশ। তার আগে হাজরা এবং যাদবপুর থেকে এসে পৌঁছায় ছাত্র শহীদ সুদীপ্ত গুপ্ত স্মরণে দুই মিছিল। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এসএফআই’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও গণআন্দোলনের নেতা শমীক লাহিড়ী, সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে। বক্তব্য রাখেন দীধিতি রায়ও। সভাপতিত্ব করেন বর্ণনা মুখার্জি।  
বর্ণনা বলেন, ‘‘গোটা পশ্চিমবঙ্গের বুকে ৮হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ। একদিকে স্কুলে বন্ধ, কলেজ ড্রপ আউট সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি, কলকাতায় ৬০০-র কাছাকাছি স্কুল বন্ধ। যখন প্রশ্ন করছি কেন বেশি টাকা নিচ্ছেন, কেন ঠিকঠাক পরিকাঠামো নেই, কেন সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না? প্রশ্ন করলে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এসএফআই নেতৃত্বকে ক্যাম্পাসের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আমরা ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছেছি। কলকাতার বিভিন্ন কলেজে গিয়ে আমরা ইউনিট গড়ে তুলেছি।
তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকেই ধ্বংস করে দিতে চাইছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। একদিকে সল্টলেক , নিউটনের পাশে যে স্কুলগুলো গড়ে উঠছে সেখানে নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পড়ানোর উপায় নেই। আসলে সরকার চাইছে যার পকেটে টাকা থাকবে সেই পড়াশোনা করার অধিকার পাবে, অন্যরা নয়। আমরা এসএফআই বলছি, শিক্ষা প্রতিটি শিশুর অধিকার, যারা সেই অধিকার কেড়ে নিতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে।‘‘ 
দীধিতি বলেন, ‘‘ এই সম্মেলনে সংগঠিত হয়েছি কারণ আগামী দু-তিন বছর সংগঠন কিভাবে চলবে তার রণকৌশল ঠিক হবে। কলকাতা জেলায় ৫৩১টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। আমরা ৪২টি স্কুলে সংগঠন তৈরি করেছি। কোনও কোনও কলেজে বারো বছর-কুড়ি বছর পর ইউনিট গড়তে পেরেছি।’’ 
দীধিতি বলেন, ‘‘ কলকাতায় মাটি ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময়ও সংহতির কথা বলেছিল। এখন প্যালেস্তাইনের জন্যও আমরা এখান থেকে সংহতি জানাচ্ছি।‘‘ 
তিনি বলেন, ‘‘দেশের সরকার তথা রাজ্য সরকার  বৈষম্যের মাধ্যম তরুণদের নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।  ক্যাম্পাসের ভিতরে কি কি পোশাক পড়বে, কি কি খাবার খাবে, কে কার পাশে বসবে কিংবা বসবে না তাও ঠিক করে দিতে চাইছে সরকার।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘এসআইআর-র নাম করে ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। যাদের নাম বাদ যাচ্ছে তারা আমাদেরই বাংলার প্রান্তিক সংখ্যালঘু অংশের মানুষ। আমরা বলছি আমরা একজনও বৈধ নাগরিকের অধিকার চলে যেতে দেব না। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।’’ 
নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্য এবং বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসএফআই। লড়াই করে সকলের জন্য কাজ ও শিক্ষার দাবিতে। জারি রয়েছে সেই লড়াই।

Comments :0

Login to leave a comment