SFI

বন্ধ স্কুল খোলা ও শিক্ষার অধিকারের দাবিতে উত্তাল নাগরাকাটা

জেলা

চা বাগানের পড়ুয়াদের নিজেদের হকের দাবিতে এবং জল, জঙ্গল, জমি ও শিক্ষা রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মিছিল ও সমাবেশ হয় মালবাজার মহকুমার নাগরাকাটা ব্লকে। ডুয়ার্সের চা বলয়ের ঘেরাটোপে থাকা নাগরাকাটা ব্লকে এদিন দুপুরে  এসএফআই'র উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সমাবেশ ও মিছিল হয়। ডুয়ার্সের চা বলয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা এবং একের পর এক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয় নাগরাকাটা। কয়েক হাজার শ্রমিকের সন্তানের ভবিষ্যৎ যখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে, তখন শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে এদিন বীরশা মোড় থেকে বিশাল মিছিল সংগঠিত করে এসএফআই। 
 

এদিন কর্মসূচির শুরুতে বীরশা মুন্ডার মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। এরপর মিছিলটি শুল্কা মোড়ে পৌঁছালে সেখানে এক প্রতিবাদী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএফআই জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি সাব্বির হোসেন।
সরকারি পরিসংখ্যানকে কার্যত উপহাস করে গত কয়েক বছরে কেবল নাগরাকাটা ব্লকেই প্রায় ৪০টিরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঠন-পাঠন বন্ধ হয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসএফআই-এর অভিযোগ, সরকারের চরম উদাসীনতার কারণেই আজ চা বাগানের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে স্কুলছুটের সংখ্যা আকাশ ছোঁবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।

 


সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে এসএফআই সর্বভারতীয় নেত্রী দীপ্সিতা ধর বলেন, "বাগান ও ফরেস্ট লাইন সংলগ্ন এলাকায় যেসব স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তা অবিলম্বে চালু করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে নতুন স্কুল গড়তে হবে।" শ্রমিকদের আর্থিক দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "একজন শ্রমিকের দৈনিক গড় আয় যেখানে মাত্র ২৫০ টাকা, সেখানে সন্তানদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্যই প্রতিদিন ১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে অসম্ভব।" দীপ্সিতা দাবি তোলেন, বাগান এলাকার পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, স্টাইপেন্ড এবং পর্যাপ্ত স্কলারশিপের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের জন্য গণপরিবহনে বিশেষ ছাড় বা বিনামূল্যে যাতায়াতের দাবিও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে দীপ্সিতা বলেন, "বর্তমানে দেশে দু’ধরণের মানুষ তৈরির চেষ্টা চলছে। যারা বিজেপি-র অন্ধ সমর্থক তারা 'দেশপ্রেমী', আর যারা অধিকারের কথা বলছে বা প্রশ্ন তুলছে তাদের 'দেশদ্রোহী' তকমা দেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, ঝাড়খণ্ড বা ওড়িশার আদিবাসীরা যখন জল-জঙ্গল-জমিন রক্ষার লড়াই করছে, জেএনইউ বা যাদবপুরের পড়ুয়ারা যখন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে, তখন তাদের 'টুকরে টুকরে গ্যাং' বলে অপমান করা হচ্ছে। আদতে বিজেপি-ই বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে টুকরো করতে চাইছে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকার আমলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষাঙ্গন গুলিতে শিক্ষার মান ক্রমশ নিম্নগামী হয়েছে।
অন্যদিকে, এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্জি তাঁর বক্তব্যে আদানি গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা ও সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন। স্থানীয় শ্রমিক পরিবারগুলিও এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। এসএফআই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বন্ধ স্কুল খোলা ও পরিবহনের সমস্যা সমাধান না হলে আগামী দিনে সমগ্র চা বলয় জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত হবে।

Comments :0

Login to leave a comment