গল্প | সময়ের ডাক
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
মুক্তধারা | ৪র্থ বর্ষ | ৭ জুন ২০২৬
--------------------------------------------
'কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে', বাড়ি ফিরে মাথায় হাত দিয়ে বসলো গোবিন্দ। সতী ভাতের হাঁড়ি টা নামিয়ে তার ঘুরিয়ে দেখলো যে গোবিন্দ দরদর করে ঘামছে,কেমন যেন অস্থির করছে। তাড়াতাড়ি আঁচল দিয়ে হাতদুটো মুছে উঠে এসে বলে-'শরীর খারাপ করছে না? বেজায় গরম , এট্টু জল দেব?'
গোবিন্দ হাত নেড়ে বারন করে। সতী দৌড়ে ঘর থেকে হাতপাখা টা এনে হাওয়া করতে থাকে। গোবিন্দ দম নিয়ে বৌয়ের দিকে তাকিয়ে বলে-' কাজটা চলে গেল'
-'সে কি কতা?'সতী একটু অবাক হয়।
' হ্যাঁ,মিলে তালা দিয়েছে মালিক,সব শেষ গো,কি করবো এখন?'
বাচ্চা ছেলের মতো ডুকরে কেঁদে ওঠে গোবিন্দ।
সতী কি করবে বুঝতে না পেরে দৌড়ে যায় রান্না ঘরে। উনুনে খানিকটা জল ঢেলে দিলাম দিয়ে বসে পড়ে পিঁড়িতে।
এমনভাবে কেটে যায় বেশ কিছুটা সময়। এমনভাবে কোনদিন ভাবে নি সে। আজ কেমন যেন হয়ে যায়। আবার দৌড়ে স্বামীর কাছে চলে আসে, বলে 'ওঠো'
তারপর ঘরে তালা লাগিয়ে আঁচলখানা কোমরে বেঁধে গোবিন্দর হাতটা ধরে তুলে তাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়।
'কোথায় যাচ্ছো?'
গোবিন্দের প্রশ্নের উত্তরে সতী বলে,'কারখানায়,চলো,আজ থেকে আমিও লড়বো, আমার মতো সবাইকে ডাকবো,দেখি কি হয়'।
উনুনের নেভা আগুন জ্বলে ওঠে সতীর চোখে।
Comments :0