Father Son duo died of Oxygen crisis

অক্সিজেনের অভাবে বাবা-ছেলের মৃত্যু!

জেলা

 বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হওয়ার পর সময়মতো অক্সিজেন না পাওয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হলো বাবা ও ছেলের। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের কৃষ্ণপুর এলাকার গোয়ালডাঙা গ্রামে রবিবারের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। গুরুতর অসুস্থ আরও দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দু’টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরেও সময়মতো অক্সিজেনের ব্যবস্থা না হওয়ায় এই মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়নি।
মৃতদের নাম সুনীল পণ্ডিত (৫৯) এবং তাঁর ছেলে লক্ষণ পণ্ডিত (৩২)। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবারে কার্যত পুরুষ আর কেউই রইলেন না। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মৃতদের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নির্মীয়মাণ বাড়ির শৌচাগারের চেম্বারের ঢালাই তিন মাস আগে হয়েছিল। বালির দাম বেড়ে যাওয়া আর বরাদ্দ অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। রবিবার চেম্বারের স্ল্যাব খুলে কাজ শুরু করতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে।
অভিযোগ, প্রথমে এক রাজমিস্ত্রি চেম্বারের ভিতরে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে নেমে পড়েন সুনীল পণ্ডিত, তাঁর ছেলে লক্ষণ এবং পরে লক্ষণের শ্বশুর। চারজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে অক্সিজেনের ব্যবস্থা ছিল না। পরে তাঁদের দাসপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও সময়মতো অক্সিজেন না মেলায় সুনীল ও লক্ষণের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। বাকি দু’জনের মধ্যে রাজমিস্ত্রি এবং লক্ষণের শ্বশুর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশার কারণেই এই দুই প্রাণহানি। তাঁদের বক্তব্য, ‘সময়ে অক্সিজেন পেলে হয়তো বাবা-ছেলেকে বাঁচানো যেত।’
ঘটনার তদন্ত ও স্বাস্থ্য পরিষেবার গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জরুরি পরিষেবা না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Comments :0

Login to leave a comment