কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে প্রতীকী অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাক দিয়েছে এসএফআই। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুর্নীতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে তারা। দিল্লীতে যন্তর-মন্তরের সামনে গত ১১ দিন ধরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা অনশন পালন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুকও। বৃহস্পতিবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা সামনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সকাল থেকে অবস্থান বিক্ষোভ করা হয়ে এসএফআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির তরফে।
এদিন দুপুরে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই শিয়ালদা থেকে কলেজটির পর্যন্ত এক বিরাট প্রতিবাদী মিছিল করে এসএফআই। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি বারুইপুরে নাবালিকা ছাত্রী ধর্ষণও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সকল দোষীদের শাস্তির দাবিও করা হয় মিছিল থেকে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বিজেপি এবিভিপির তাণ্ডবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে নেতৃবৃন্দ।।
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেছেন, "গোটা দেশের সমস্ত জায়গাটি প্রতীকে অনশন সকাল থেকেই পালন হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ও বারুইপুরে নির্যাতিতা ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সকল অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে এই মিছিল চলছে। আমরা স্লোগান দিচ্ছি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ডিপি বদলাও। ধর্মেন্দ্র প্রধানই গোটা ভারতের শিক্ষা দুর্নীতির নায়ক। তার পদত্যাগ চাই।"
তিনি আরও বলেছেন, "দুমাস ধরে সরকার বদলের পর বহিরাগত বিজেপি-এবিভিপি দাপট চালাচ্ছে। একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে এসএফআই সহ সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। ক্যাম্পাসে অশান্তকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ঠিক যেভাবে টিএমসিপি আক্রমণ করতো একই ভাবে কাজ করছে তারা। এই তান্ডব বাংলায় চলবে না। আমরা সরকারের কাছে পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে হবে।"
এদিন অবস্থান-বিক্ষোভেই বক্তব্য রাখেন এসএফআই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পথনাটিকাও সংগঠিত হয়। অবস্থানেই এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্জী বলেন, "মমতা ব্যানার্জির দেখানো পথেই হাঁটছে বিজেপি। শিক্ষা ব্যবস্থায় যে দৃষ্টিভঙ্গি তৃণমূলের ছিল একইভাবে এবিভিপিও ক্যাম্পাস গুলোকে তাই চালু করার চেষ্টা করছে। ইউপি বিহারের মতো কালচার পশ্চিমবঙ্গের ক্যাম্পাসে আনার চেষ্টা করছে তারা। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করছি ভিভিপি আমরা স্পষ্টভাবে বলছি ক্যাম্পাসের ভেতর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাত্র সংসার নির্বাচন করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা যাদেরকে বেছে নেবে তারাই ক্যাম্পাস পরিচালনা করবে।"
তার কথায় বিজেপির সরকার ত্রিপুরায় শেষ আট বছরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করেনি। পশ্চিমবঙ্গেও তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন যদি না করে তাহলে আবার আমরা বিকাশ ভবন অভিযান করব। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেবে।
Comments :0