নাগরিকত্ব ও বিদেশি-পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যায্য, আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করলো সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ অসমের ২৭ জন ব্যক্তিকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় দায়ের হওয়া আপিল মঞ্জুর করে গোহাটি হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলির দেওয়া মতামত ও আদেশও খারিজ করে মামলাগুলি নতুন করে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্ব এবং বিদেশি-পরিচয়ের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়। তাই এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, আইনসম্মত পদ্ধতি এবং যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, দেশের বৈধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে যাতে বেআইনিভাবে বা ভুয়ো দাবি করে কিংবা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে কেউ ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করতে না পারে। তবে সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কোনওভাবেই আইনি প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা উপেক্ষা করা যাবে না।
বেঞ্চ আরও স্পষ্ট করেছে, বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারায় আবেদনকারীর ওপর যে প্রমাণের দায়িত্ব বর্তায়, তা সম্পূর্ণ বহাল থাকবে। তবে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া অবশ্যই ন্যায্য, বৈধ ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তারা আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দাবির গুণগত দিক বিচার করেনি এবং তাদের পেশ করা নথির সত্যতা, গ্রহণযোগ্যতা বা পর্যাপ্ততা সম্পর্কেও কোনও মত প্রকাশ করেনি। এই সমস্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনালকে স্বাধীনভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, মামলাগুলি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর অর্থ এই নয় যে আবেদনকারীরা কোনও বিশেষ সুবিধা বা আইনি ছাড় পাচ্ছেন। যদি কেউ নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে এই নির্দেশ তার পক্ষে কোনও অধিকার তৈরি করবে না। বরং বিদেশি ঘোষণা করার মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত যেন বিদেশি আইন, ১৯৪৬, ফরেনার্স (ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৬৪ এবং সংবিধান-নির্ধারিত ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গৃহীত হয়, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলি নতুন করে স্বাধীনভাবে মামলাগুলির শুনানি করবে। গোহাটি হাইকোর্ট বা পূর্ববর্তী ট্রাইব্যুনালের কোনও পর্যবেক্ষণের প্রভাব যেন নতুন সিদ্ধান্তে না পড়ে, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এই ২৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে সবিত্রী দে, আজবাহার আলি, মহম্মদ আকবর আলি, আবেদা খাতুন এবং আনোয়ারা খাতুন অভিযোগ করেছিলেন, পুরনো ভোটার তালিকায় নামের বানানে সামান্য ভুল বা টাইপোগ্রাফিক ত্রুটির মতো অসঙ্গতির ভিত্তিতে তাদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। তারা প্রথমে গোহাটি হাইকোর্টে এবং পরে সুপ্রিম কোর্টে পৃথকভাবে ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন।
Supreme Court
নাগরিকত্ব নির্ধারণে ন্যায্য ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার ওপর জোর সুপ্রিম কোর্টের, আসামের ২৭ জনকে ‘বিদেশি’ ঘোষণার রায় বাতিল
×
Comments :0