অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যে বিবেচনাধীন ৩৫ লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তি করেছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।
পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার ফের বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্য থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। তালিকা প্রস্তুত করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কমিশনের হাতে তুলে দেবেন। তারপর সেই তালিকা কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। কিন্তু বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির সঙ্গে তালিকা প্রকাশের এখন আর কোনও সম্পর্ক নেই। গত সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় বিবেচনাধীন ১০ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশের সময় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা ২৯ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এদিন বীরভূমের দলের নির্বাচনী সভা থেকে এই প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের কৃতিত্ব নিতে ময়দানে নামলেন মমতা ব্যানার্জি। ১০ লক্ষের অতিরিক্ত তালিকায় ৪০ শতাংশ বাতিল হওয়ার পরও মমতা ব্যানার্জি মনে করেছেন, যাদের নাম উঠেছে তার কৃতিত্ব আমাদের! অথচ শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালের দিনই ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্য সরকার ও কমিশন- দুই সাংবিধানিক সংগঠনের দোষারোপ ও অনাস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ৬০ লক্ষ বৈধ ভোটারদের ভবিষ্যত।
আসলে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের সঙ্গে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ‘ই-স্বাক্ষর’ জরুরি বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। ফলে শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের আগে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা নিষ্পত্তির হওয়া বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে কত সংখ্যায় ‘ই-স্বাক্ষর’ করতে পারছেন তার ভিত্তিতে তালিকা ঠিক হবে। তবে কমিশন চাইছে, দ্রুততার সঙ্গে বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির পাশাপাশি কমিশনের নিয়ম মেনে ই-স্বাক্ষরের কাজ সমাপ্ত করে তালিকা প্রকাশ। কমিশন সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে যাতে প্রতিদিন তালিকা প্রকাশ করা যায় তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রধান বিচারপতি বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন বলে জানা গেছে।
তবে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলেই তাতে যে শুধুমাত্র বৈধ ভোটাররাই থাকছেন এমনটা নয়। ওই তালিকায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদাতার সঙ্গে বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে কারা বাতিল হলেন তা একত্রিত করেই কমিশন তালিকা প্রকাশ করছে। ফলে তালিকা প্রকাশের পর বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ভোটারদের সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হচ্ছে তাঁর বুথের ভোটার তালিকার দিকে। সেই তালিকায় চোখ বুলিয়ে খুঁজে নিতে হচ্ছে আগামী নির্বাচনে তিনি ভোটার না, তাঁকে আবার আপিল ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নতুন করে মামলা করে জয়ী হতে পারলে ফেরাতে পারবেন ভোটাধিকার।
এবার এসআইআর পর্বে শুরু থেকেই গরিব মানুষকে নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি চিহ্নিত প্রায় এক কোটির ওপর ভোটারকে এসআইআর’র সময় শুনানির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ওই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একাধিক জনসভা থেকে রাজ্যের শুনানি আসা মানুষকে আশ্বস্ত করেছিলেন, শুনানির সময় ভোটারদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথির ব্যবস্থা করে দেবে রাজ্য সরকার। শুনানি কেন্দ্রের বাইরে সরকারের তরফ থেকে শিবির করে মানুষের কাছে এই সহয়তা দেওয়া হবে। কিন্তু কোথাও সরকারি সহায়তা শিবির গড়ে মানুষের কাছে সরকারি নথি তুলে দেওয়ার কোনও সাহায্য রাজ্যবাসী পাননি।
আর এখন ভোট প্রচারে বেরিয়ে মমতা ব্যানার্জি কী বলছেন?
বৃহস্পতিবার বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, ‘‘যাঁদের নাম (বিবেচনাধীন) উঠেছে, তার পুরো কৃতিত্ব আমাদের। আমরা লড়াই না করলে এই নামও উঠতো না। ২৯-৩০ লাখ তো উঠেছে।’’ এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকে নিশ্চিত করা যায়নি শেষ পর্যন্ত ১০ লক্ষের মধ্যে কতজন ভোটার হলেন। ৪০ শতাংশ বাতিল ধরে নিয়ে একটা সাধারণ হিসাব ধরলে ৬ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এদিন পর্যন্ত ৬০ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩৫ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে এখনও বিবেচনাধীন অবস্থাতেও আটকে আছেন প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটার। আর মুখ্যমন্ত্রী অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশে বিবেচনাধীন ভোটারদের সঙ্গে বঞ্চনা দেখেও কৃতিত্ব নিতে নেমে পড়েছেন।
এমনকি এদিন শুনানির সময় শিবির গড়ার মতো আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে চাওয়া ভোটারদের জন্য ফের শিবির করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন। ‘‘আমাদের বুথে বুথে শিবির থাকবে। আমরা আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করবো। কীভাবে আবেদন করতে হয় আমরা করে দেব।’’ বাতিল হওয়া বিবেচনাধীন ভোটারদের জন্য ভোটের সময় ফের প্রতিশ্রুতি মমতা ব্যানার্জির।
SIR West Bengal
বিবেচনাধীন ৩৫ লক্ষের নিষ্পত্তি, আজই হয়তো তালিকা
×
Comments :0