রণদীপ মিত্র: সিউড়ি
সুষ্ঠু ভোটার তালিকা হয়নি। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটার তালিকা করতে ব্যর্থ। ৬০ লক্ষাধিক নাম রয়েছে বিবেচনাধীনের তালিকায়। তা’হলে সেই কমিশন সুষ্ঠুভাবে ভোট কিভাবে করবে?
ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ রেখে ভোট ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি জানিয়েছেন ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ রেখে ভোট ঘোষণার বিরোধিতা করে সর্বোচ্চ আদালতে যাবে সিপিআই(এম)।
তিনি বলেন, কমিশনকে সিপিআই(এম) বলেছিল তালিকা সম্পূর্ণ করার পর ভোট ঘোষণা করতে। তাঁর ক্ষোভ, ভোটের আগেই ফলাফল ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ায়। ভোটার তালিকা নিরপেক্ষ নয়। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট বুথ, নির্দিষ্ট এলাকা, নির্দিষ্ট বিধানসভা বেছে নাম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
রবিবার বীরভূমের সিউড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সেলিম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম এবং জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ।
এক প্রশ্নে সেলিম জানান যে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন বামফ্রন্টের সভাপতি বিমান বসু। শরিক দলগুলির নেতৃবৃন্দ থাকবেন। সোমবার ঘোষণা হতে পারে প্রার্থী তালিকা। যেহেতু দুই দফায় ভোট হচ্ছে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকাও দু’দফায় ঘোষণা হতে পারে।
সেলিম বলেছেন যে শাসক দলগুলির ইচ্ছা পূর্ণ করতে এমন বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিবেচনাধীন রাখা, তাঁদের সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে রেখে ভোট ঘোষণা করা কোনও আইনসম্মত ব্যাপার নয়। তিনি বলেন, প্রথম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছিল ম্যাপিং। যখন ম্যাপিং দেখানো হলো তখন জোর করে একটি অংশকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’-র নাম করে ঝুলিয়ে রাখা হলো। তিনি বলেন, আধিকারিকরা কিভাবে দলদাসে পরিণত হয়েছে তা দেখা গিয়েছে। বিএলও থেকে সিইও পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন। প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় বিচারবিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাঘে ছুঁলে এক ঘা, পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা। আর বিচারব্যবস্থা ছুঁলে কত ঘা হবে তার ঠিক নেই। বিজেপি-আরএসএস’র ইচ্ছায় নির্বাচন কমিশন এটা করেছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী, তপশিলি, মতুয়া, বিবাহিত মহিলা, অল্পবয়সী অংশকে ভোটদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সেলিম বলেন, এ রাজ্যে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে দেশে প্রথম আঠারো বছরে ভোটাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ভোটাধিকার প্রসারিত করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু বিজেপি এবং তৃণমূল মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলেন, বিভিন্ন অংশকে নির্দিষ্ট করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার, গণতন্ত্রকে সঙ্কুচিত করার বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রকে সম্প্রসারিত করার লড়াই চলবে। তিনি বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল চাইলেও এখানে বিভাজনের রাজনীতি করা যাবে না। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত লড়ে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করব।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডিএ ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় সেলিমকে। তিনি বলেন, এই সরকার গত ৯ মার্চ আদালতে গিয়ে বকেয়া ডিএ দেওয়ার সমসয়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল। কারণ সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ’র নির্দিষ্ট অংশ দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তখন বলেছিল অর্থ নেই। এরপর গত ১৩ মার্চ রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক সহ রাজ্যের কোষাগার থেকে বেতনপ্রাপ্ত সব অংশ সাফল্যের সঙ্গে ধর্মঘট করে। এখন ডিএ দেওয়ার ঘোষণা হলো। তা’হলে এখন টাকা এল কিভাবে? দেওয়া হচ্ছে বকেয়া অর্থ। কিন্তু সেটিও কর্মচারীরা লড়াই করে আদায় করলেন। মুখ্যমন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, এই বাহিনী ওই বাহিনী নিয়ে ভোট পর্যন্ত নানা কথা বলা হবে। আমরা জীবন জীবিকার কথা বলব। লুটের বিপক্ষে বলব। বিজেপি থেকে তৃণমূলে গেলে রাজ্য পুলিশ পাহারা দেয়। আর বিজেপি-তে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাহারা দেয়।
তিনি বলেন, ভোট কত দফায় হবে সেটি বিষয় নয়। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ ভোট হবে কিনা বিষয় সেটি। নির্ভয়ে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কিনা না, বিষয় সেটি। দেখতে হবে প্রকৃত সব ভোটারের নাম থাকবে কিনা, মৃত ভোটারদের নাম বাদ যাবে কিনা। ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাতের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না।
সেলিম জানান যে নির্বাচনী ইশ্তেহার এক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হবে। আর স্থানীয় স্তরে ইশ্তেহারও প্রকাশ করা হবে।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, গিরিশ পার্ক যদি হিংসা হয় তা’হলে মণিপুরে কী হচ্ছে? দিল্লিতে দাঙ্গা করে ছাত্রদের জেলে পুরে দেওয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেটাকে বলে হিংসা। আর গিরিশ পার্কের ঘটনা তো বিজেপি-তৃণমূলের ঘরের কোন্দল।
সেলিম বলেন, কমিশন পর্যবেক্ষক করে যাদের পাঠাবে তাদের কাজ করতে হবে। ভোট লুট জানালেও ফোন তোলে না। এদের হাত করে নেওয়া হয়। এটাকে তামাশা বলে। আমরা কোনও তামাশার পক্ষে নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। আমরা বাংলা বাঁচানোর পক্ষে।
Comments :0