SSC group C recruitment scam

চাকরি খোয়ালেন এবার তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান

রাজ্য

হাইকোর্টের নির্দেশে স্কুলের চাকরি গেল তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের। বেআইনি নিয়োগের কারণে চাকরি বাতিলের নাম যতই সামনে আসছে তৃণমূলের সঙ্গে চাকরি লুটের সম্পর্কও ততই প্রমাণিত হচ্ছে। হাওড়ার শিবপুর যশোদাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রুপ সি বিভাগের কর্মী শেখ সাদ্দাম হোসেন ওরফে বান্টি আমতা বিধানসভার সাবসিট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং তৃণমূলের নেতা। ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন হাইকোর্টের নির্দেশে যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ৬২৬ নম্বরে শেখ সাদ্দাম হোসেনের নাম আছে। পরীক্ষায় তাঁর রোল নং ছিল ৩৬০৮১৬১১০৪১১৫৬। তালিকায় দেখা যাচ্ছে সাদ্দামের রেকমেন্ডসান মেমো তারিখ ১৬/০১/২০১৮। নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের চাকরি যাওয়ায় তৃণমূলের চুরি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। 
নিজের চাকরি যাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সাবসিট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ সাদ্দাম হোসেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, কোনোরকম প্রভাব না খাটিয়েই নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। বিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে আমি সেচ দপ্তরে চাকরি করতাম। স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসি। তারপর লিখিত পরীক্ষায় পাস করে মৌখিক পরীক্ষা ও টাইপ টেস্টে পাশ করে চাকরি পেয়েছিলাম। 
সিপিআই(এম)’র হাওড়া জেলা কমিটির সম্পাদক দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল দলটাই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কয়লা থেকে বালি ও গোরু পাচার, নিয়োগ দু্র্নীতি সবেতেই তৃণমূল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাইকোর্টের নির্দেশে গ্রুপ-সি পদের চাকরি বাতিলের যে তালিকা বেরিয়েছে তাতে হাওড়া জেলার বহুজনের নাম আছে। সেই নামের তালিকা মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে তাঁরা বেশিরভাগই হয় তৃণমূলের স্থানীয় নেতা, নয় তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আমরা এই আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ দলটিকে সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাড়িয়ে গ্রামকে লুটমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
একইভাবে অন্যান্য জেলাগুলি থেকেও বেআইনিভাবে নিযুক্তদের নাম বাতিলে তৃণমূল যোগ পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সম্প্রতি ২৪ জন শিক্ষাকর্মীর নাম বেআইনি নিযুক্তদের তালিকায় উঠে এসেছে। এই তালিকায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট, কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, হরিরামপুর, কুশমন্ডি, তপন সহ প্রায় সব ব্লকেই ভুয়ো শিক্ষাকর্মীদের তালিকা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে জেলার ডিআই অফিসে এসেছে এবং ডিআই অফিস থেকে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই ব্যাপারে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ  সংবাদমাধ্যমকে জানায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ওয়েবসাইটের নামের তালিকা ডিআই অফিস মারফত বিদ্যালয়ে এসেছে। অতি দ্রুত জেলা পরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 
মালবাজারের ক্রান্তি বিধানসভার অধীন রাজাডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতের বাসিন্দা মুন দত্ত গজলডোবা হাইস্কুলে গ্রুপ সি পদে কর্মরত ছিলেন, তিনি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে কাজে যোগদান করেন। তাঁরও চাকরি বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ব্লকে চাকরি বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। এবিষয়ে গজলডোবা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত পালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। মালবাজার মহকুমার ক্রান্তি ব্লকের রাজাডাঙা পেন্দা মহম্মদ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকর্মী পদে থাকা প্রণব রায়ের চাকরিও বাতিল হয়েছে। তাঁর বাড়ি চেংমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি বাজার এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার আড়ম্বরের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠান হলেও বউভাতের আগেই তিনি জানতে পেরেছেন তাঁর চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুদীপ দত্ত বলেছেন, ‘আদালত ও শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে যা হওয়ার তাই হবে।’
 

Comments :0

Login to leave a comment