Roman Castle Destroyed

রোমান দূর্গের ‘পতন’, তুর্কি ভূকম্পে

আন্তর্জাতিক

তুরস্ক এবং সিরিয়ার ভূমিকম্পে বেড়েই চলেছে লাশের পাহাড়। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৫,০০০ সংখ্যা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে দেশকে। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কোপ থেকে রক্ষা পায়নি ২,২০০ বছরের পুরোনো রোমান স্মৃতিস্তম্ভ গাজিয়ানটেপ দূর্গ (Gaziantep Castle) ।
তুরস্কে সোমবারের মারাত্মক ভূমিকম্পের কারণে শহরের কেন্দ্রে টিলার ওপরে অবস্থিত গাজিয়ানটেপ দূর্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  রোমান সাম্রাজ্যের (Roman Empire) স্মৃতিবহনকারী একটি ওয়াচ টাওয়ার হিসাবে ২য় এবং ৩য় শতাব্দীতে নির্মিত, গাজিয়ানটেপ দুর্গ সময়ের সাথে সাথে সম্প্রসারিত হয় এবং বহু বছর ধরে প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। 

 


৫২৭-৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ১ (Justinian 1) এর শাসনকালে, এটি আরও বিকশিত হয় এবং বর্তমান রূপ নেয়। অনেক সম্রাটের ব্যক্তিগত চাহিদাও গাজিয়ানটেপ দুর্গের ভাস্কর্যে স্থান পায়। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের (Byzantine Empire) সময়, এই দুর্গ আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করেছিল এবং একটি সামরিক ঘাঁটি হিসাবে কাজ করেছিল।
কিছু সময় পর, অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনকালে, রাজনৈতিক, সামরিক এবং সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকার কারণে দুর্গটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে জানা যায়।

 


অটোমান সাম্রাজ্যের (Ottoman Empire) পতনের পর ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে শহরের প্রতিরোধেরও প্রতীক ছিল এই দূর্গ।
গাজিয়ানটেপ আগে ‘আইনতাব’ নামে পরিচিত ছিল। ‘গাজি’র অর্থ ‘যোদ্ধা’।  তুর্কি সেনাপতি সাহিন বে-এর নেতৃত্বে সেই যোদ্ধারা ১৯২০ সালে ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে শহর রক্ষা করার পরে দূর্গের নাম গাজিয়ানটেপ রাখা হয়। 


বেশ কয়েকটি যুদ্ধ এবং আক্রমণের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পরেও, গাজিয়ানটেপের দুর্গ মাথা তুলেই দাঁড়িয়ে থেকেছে। বর্তমানে একটি যাদুঘর এবং পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দুর্গের বিস্তৃত ইতিহাস স্মরণ করার জন্য, বিভিন্ন ইভেন্ট, প্রদর্শনী, কনসার্ট এবং অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ অনুষ্ঠিত হতো, যা সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকদের এখানে টেনে আনত।
কিন্তু শত আক্রমণ ঝড়-ঝাপটাতেও ভেঙে না পড়া সহস্রাব্দী প্রাচীন এই দূর্গ  ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল শেষমেশ। দুর্গের চারপাশের লোহার রেলিং আশেপাশের ফুটপাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। দুর্গের বিভিন্ন ঘরের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে।

 


তুরস্ক এবং সিরিয়ায়া শক্তিশালী ভূমিকম্প ৫,০০০ এরও বেশি প্রাণ নিয়েছে। জাতিসংঘ (UNO) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য তুরস্কে জরুরি প্রতিক্রিয়া দল এবং চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে। মেক্সিকো, মিশর, ইতালি, নিউজিল্যান্ড, চীন, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং ভারত সহ বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তিবিদ, স্নিফার ডগ, এনডিআরএফ ডাক্তার, প্যারামেডিকাল এবং উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment