Iran India

ইরানের অবরোধ সরিয়ে হরমোজ প্রণালী দিয়ে ভারতে পৌঁছালো দুই এলপিজি জাহাজ

জাতীয় আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এবং ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ইরানের কড়া নজরদারিতে থাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর 'হরমোজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) দিয়ে নিরাপদে ভারতে প্রবেশ করল দুটি বিশালকার গ্যাস পরিবাহী জাহাজ। রবিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই জলপথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই রুদ্ধদ্বার পরিস্থিতি কাটিয়ে শনিবার ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ ‘শিভালিক’ এবং ‘নন্দাদেবী’ প্রায় ৯২,৭১২ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG) নিয়ে এই প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের পথে রওনা দেয়।
‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ (FT)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা জিইয়ে রাখার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা সবসময়ই কাম্য। এটি কোনও বিনিময় প্রথা নয়, বরং ভারত ও ইরানের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন।’ তিনি আরও জানান, ইরান এই পথ বন্ধ করার পর থেকে তিনি ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে চারবার ফোনে কথা বলেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি কোনও স্থায়ী চুক্তি নয়। প্রতিটি জাহাজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সমন্বয় বজায় রাখতে হচ্ছে।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ। হরমোজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে ভারতের রান্নার গ্যাস ও পরিবহণ খাতে বড় ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের এই পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করছে অনেকে।
যদিও দেশের কিছু অংশে সিরামিক টাইলস বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মতো জ্বালানি-নির্ভর উৎপাদন ক্ষেত্রে এলপিজি-র সামান্য ঘাটতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি গ্যাস না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালিও জানিয়েছেন, ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং অভিন্ন স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই ভারতীয় জাহাজগুলিকে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment