বাংলাকে বাঁচাতে হবে, এই স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন যাদবপুর, কসবা, টালিগঞ্জ, মহেশতলা, রাসবিহারী, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, বালিগঞ্জ, মেটিয়াবুরুজ, ভবানীপুর এবং কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থীরা।
সোমবার হাজরা মোড় থেকে মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যান বাবপন্থী প্রার্থীরা। সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এবং শমীক লাহিড়ী, রাজ্য কমিটির সদস্য সৃজন ভট্টাচার্য, অধ্যাপক পবিত্র সরকার সহ নেতৃত্ব ছিলেন মিছিলে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এদিকে তৃণমূল এবং বিজেপি যখন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। তখন রুটি, রুজির কথাকে সমানে রেখে নির্বাচনে লড়াই করছে বামফ্রন্ট। পত ১৫ বছরে রাজ্যে নতুন করে কোন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বন্ধ হয়েছে কারখানা। সরকারি পদে নিয়োগ নেই। শিক্ষক নিয়োগে হয়েছে দুর্নীতি। রাজ্য জুড়ে বাড়ছে অরাজকতা। এই সবের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপিকে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট।
বামফ্রন্টের ইশ্তেহারে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটা পরিবারে অন্তত একটি স্থায়ী কাজের কথা বলা হয়েছে ইশ্তেহারে। পাঁচ বছরে ৪০ লক্ষ স্থায়ী কর্মসংস্থান, ২৫ লক্ষ শিল্প ও লজিস্টিক পরিষেবায় কাজ, ২০ লক্ষ গ্রামীণ কর্মসংস্থান, ১৫ লক্ষ প্রযুক্তিভিত্তিক চাকরির কথা বলা হয়েছে ইশ্তেহারে।
এসএসসি, পিএসসি, সিএসসি, ও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সব শূন্যপদে ক্রমান্বয়ে নিয়োগ করা, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সব শূন্যপদে ক্রমান্বয়ে নিয়োগ হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রাজ্য বাজেটের ১০ শতাংশ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মসূচী রূপায়ণের জন্য বরাদ্দ করা হবে। হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে স্বচ্ছতার সঙ্গে সব শূন্যপদ ক্রমান্বয়ে পূরণ করা, পাহাড়ে নতুন মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে বামফ্রন্টের ইশ্তেহারে।
নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ভাতাপ্রাপ্ত সব মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত করে তাঁদের আয় কয়েকগুণ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং নাবার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণদানের ব্যবস্থা করা হবে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে অবৈধ-বেআইনি মাইক্রোফিনান্সের জাল থেকে মুক্ত করা হবে এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বকেয়া আদায়ের নামে গ্রামীণ মহিলাদের উপর মাইক্রোফিনান্স কারবারিদের অত্যাচার কঠোর ভাবে দমন করা হবে।
শিল্পাঞ্চলে শিশুসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা, প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় জোর দিয়ে ধর্মান্ধতা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করার প্রচেষ্টা করা হবে। প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু 'স্বশাসিত অভয়া বাহিনী' তৈরি হবে, যারা বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে নারী নির্যাতন দমন করবে।
Comments :0