পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার আঁচ এবার ভারতের হেঁশেলে। ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং হরমোজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তীব্র সংকটে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। রান্নার গ্যাসের (LPG) অভাবে ধুঁকছে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই এবং কলকাতার একাধিক হোটেল।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাব মেটাতে না পেরে অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ তাদের কাঠ বা কয়লার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বেঙ্গালুরু শহরের জনপ্রিয় ‘বেঙ্গালুরু থিন্ডিজ’ তাদের ১১টি মেনু কমিয়ে এখন শুধুমাত্র চা ও কফি পরিবেশন করছে। দোসা, ইডলি বা বড়ার মতো খাবার তৈরি পুরোপুরি বন্ধ।
চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ করেছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চেন্নাইয়ের হোটেল অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোগলাই খাবারের ঠিকানা ‘আমিনিয়া’ জানিয়েছে, তাদের কাছে মাত্র তিন দিনের সিলিন্ডার মজুত রয়েছে। তারাও এখন কয়লার উনুন ব্যবহারের কথা ভাবছে। এদিন শহরের বিভিন্ন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটারদের দোকানের বাইরে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে রান্নার গ্যাসকে কেন্দ্র করে। অনেকের অভিযোগ তারা বুকিং করেও গ্যাস পাচ্ছে না।
সিলিন্ডারের আকালে হু হু করে বাড়ছে বাণিজ্যিক এলপিজি-র দাম। গত সপ্তাহেই গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ২০০০ এর কাছাকাছি। গুজরাটের সুরাটে কালোবাজারে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ২,২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য ভারত তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আসে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। এই আমদানির প্রধান পথ হলো হরমোজ প্রণালী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের আবহে ইরান এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে।
এরই মধ্যে মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই নিয়ম বড় হোটেল বা হাসপাতালের কিচেন সামলাতে যথেষ্ট নয়। আইটি পার্ক, স্কুল-কলেজের হোস্টেল এবং ট্রেনের ক্যাটারিং পরিষেবাও এই সংকটে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
LPG Crisis
জ্বালানি সরবরাহে অভাব উনুনের দিকে দেশের বিভিন্ন শহরের রেস্তোরাঁ গুলো
×
Comments :0