এন এস সজিদ: তিরুবনন্তপুরম
ধর্মীয় বিভাজনের শৃঙ্খল যখন ওঁদের ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কুম্ভমেলায় ভাইরাল হওয়া মোনালিসা ভোসলে ‘ঈশ্বরের আপন দেশ’-কে নতুন জীবন শুরু করার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিলেন। তিরুবনন্তপুরমের আরুমানুর শ্রী নাইনার দেব মন্দিরে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা মহম্মদ ফারমান খান ও ইন্দোরের মোনালিসা একে অপরকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। শ্রীনারায়ণ গুরুর প্রতিষ্ঠিত এ মন্দিরে জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে শত শত মানুষ এই বিয়ের সাক্ষী হলেন।
এই নবদম্পতি প্রথমে থাম্পানুর পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জানান, মোনালিসার পরিবার এই বিয়েতে বাধা দিচ্ছে। মহাম্মদ ফারমান একজন অভিনেতা। তিনি মোনালিসার সঙ্গে সিনেমায় কাজ করেন। শ্যুটিং চলাকালীন ওঁদের প্রেম হয়। পরিবার যখন ওঁদের সম্পর্কের বিরোধিতা করে মোনালিসাকে এক আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়, এই যুগল তখন আইনি সুরক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মোনালিসার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় পুলিশ তাঁর আত্মীয়দের জানিয়ে দেয় যে, তিনি নিজের পছন্দ মতো মানুষের সঙ্গে থাকার আইনি অধিকার রাখেন। দম্পতি জানান, ওঁরা কেরালাকে বিয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন কারণ এটি এমন এক জায়গা যা সাংবিধানিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।
নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এই দম্পতি বলেন, ‘‘আমরা ভয়হীনভাবে একসঙ্গে বাঁচতে চাই, আর তার জন্য কেরালার চেয়ে নিরাপদ জায়গা ভারতে আর নেই। অন্য রাজ্যে আমাদের সম্পর্ক চরম বিরোধিতার মুখে পড়ত। এখানে কেউ আমাদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে না; বরং তারা জানতে চায়, আমরা নিরাপদ কি না। এই মাটির মতো এখানকার মানুষগুলোও সুন্দর এবং তারা আমাদের প্রচুর সমর্থন দিয়েছে। আমরা কেরালাতেই থাকতে চাই এবং আপাতত বাড়ি ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই।’’
কেরালায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় যুব সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকরা এই নবদম্পতির জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন, কেরালা সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি এবং সিপিআই(এম) সাংসদ এ এ রহিম সহ আরও অনেকে নবদম্পতিকে অভিনন্দন ও সমর্থন জানাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
Comments :0