Supreme Court SIR

৭ তারিখের মধ্যে শেষ হবে এসআইআর শুনানি, আশা ট্রাইব্যুনালের

জাতীয় রাজ্য

আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বিবেচনাধীন থাকা সব নামের নিশপত্তি হয়ে যাবে বলে সুপ্রিম কোর্টের জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল এসআইআর সক্রান্ত সব মামলার শুনানি। এদিন প্রধানবিচারপতি জানিয়েছেন এই মামলা গুলোর পরবর্তী শুনানি হবে ৬ এপ্রিল। উল্লেখ্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রথমে জানিয়ে ছিলেন ৭ এপ্রিল হবে শুনানি। পরে কমিশনের আইনজীবী জানান, ‘আইন অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যারা ভোটার তালিকায় আসবেন, তারা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।’ 
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে শুনানির সময় আপিল ট্রাইব্যুনালগুলি নতুন নথি গ্রহণ করতে পারবে। তবে, সেই নথির সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার পরেই তা গ্রাহ্য হবে।
প্রথমে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, অ্যাডজুডিকেটিং অফিসার বা বিচারকারী আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়া হয়নি, এমন কোনও নতুন বা অতিরিক্ত নথি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু মামলাকারীদের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে আদালত তার নির্দেশ সংশোধন করে জানায়, ‘নথির সত্যতা ও প্রামাণ্যতা যাচাই না করে আপিল ট্রাইব্যুনাল কোনও নতুন নথি গ্রহণ করবে না।’
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিদের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
আদালতকে আরও জানানো হয়েছে যে, ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ৪৭ লক্ষ বিবেচনাধীন থাকা নাম ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দ্বারা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন যে, আধিকারিকরা প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ আপত্তির নিষ্পত্তি করছেন এবং আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বাকি সমস্ত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য সরকারি আধিকারিকদের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিয়োগ করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে বিবাদের জেরে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তীকালে আদালত প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কাছে বিচারকারী আধিকারিকদের রেকর্ড করা কারণ বা মন্তব্যগুলিতে অবশ্যই অ্যাক্সেস থাকতে হবে এবং সেই কারণগুলি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে সরবরাহ করতে হবে।
শুনানির সময় বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘কোন নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার পিছনে কী যুক্তি ছিল, তা আধিকারিকরা সেখানে উল্লেখ করেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে যখন কোন ব্যক্তি যদি আপিল করেন তবে তাকে অবশ্যই এই কারণ জানাতে হবে।’
বিচারপতি বাগচী আরও বলেন যে, ভোটার তালিকায় ভুলভ্রান্তি হলে তা ট্রাইব্যুনাল সংশোধন করতে পারে। যদি কাউকে অন্যায্যভাবে বাদ দেওয়া হয় এবং তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, ট্রাইব্যুনাল সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। একইভাবে, ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া কেউ যদি ভোট দেন এবং ট্রাইব্যুনালে সেই রিপোর্ট জমা পড়ে, তবে নির্বাচন কমিশনের এই ভোটার তালিকা সংশোধনের কোন মানে থাকবে না।
শুনানির সময়, একসঙ্গে প্রচুর 'ফর্ম ৬' জমা পড়া নিয়ে মামলাকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আদালত জানিয়েছে যে, নথিবদ্ধ প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র মৌখিক যুক্তির ভিত্তিতে তারা কোন পদক্ষেপ করতে পারে না। আদালত মৌখিকভাবে এও স্পষ্ট করে দেয় যে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত 'কোয়ালিফাইং ডেট'-এর পরে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভোটাররা ভোটাধিকার দাবি করতে পারবেন না।
মামলাকারীদের পক্ষ থেকে অন্যতম আইনজীবী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা যাদবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী দামা শেশাদ্রি নাইডু।

Comments :0

Login to leave a comment