মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গতি প্রকৃতি, ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল আমেরিকার যৌথ হামলা, প্রত্যাঘাত গোটা বিশ্বে শুধু অর্থনৈতিক উদ্বেগই বৃদ্ধি করেনি, ভারসাম্যের নতুন ফ্রন্ট খুলে দিয়েছে। একইসঙ্গে, ভেঙে দিয়েছে গত কয়েক দশক ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন আধিপত্যবাদ। গত কয়েকদিন ধরে যা ঘটে চলেছে, তা এই ভূখণ্ডে একসময় অদম্য-অপারেজয় বলে মনে হওয়া মার্কিন ভাষ্যগুলি ভেঙে পড়েছে। ট্রাম্পে সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে ইরান। সেই সঙ্গে বলেছে নিজস্ব শর্তেই যুদ্ধ থামাবে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ যখন শুরু তখন ট্রাম্পের উদ্ধত উক্তি যুদ্ধে জিতে গেছে আমেরিকা। কয়েকদিন বাদে তাঁর বিবৃতি আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা তার পরেই ইরান শেষ। এরপর সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের ঘোষণা পাঁচ দিনের যুদ্ধ বিরতি, সংযত হোক ইরান। এবার ইরানকে সমঝোতা প্রস্তাব পাঠিয়েছে আমেরিকা। তাঁর থেকেও বড় খবর, ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাব সমূলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা তাদের নিজস্ব শর্তেই এই যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অভূতপূর্ব। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দু'বার আলোচনার নামে ইরানকে প্রতারিত করেছে, তা তুলে ধরছে ইরান।
পালটা বিবৃতি, যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। তাদের দাবি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপ রোধ করতে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি অধিকার, যা অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি নির্ভর করছে এই শর্তগুলো মেনে নেওয়ার ওপর।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিধিনিষেধের ফলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের তীব্রতা ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং এই অচলাবস্থা কাটানোর পথ খুঁজে বের করতে আমেরিকার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। যুদ্ধ থেকে সরে আসার জন্য ট্রাম্পের ওপর তাঁর নিজের দেশেও চাপও বাড়ছে। সংবাদসংস্থা এপি’র প্রকাশ করা এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে আমেরিকার সামরিক সক্রিয়তার বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন। সমর্থনের অভাবে সমঝোতার পথে হাঁটতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। তবে একই সঙ্গে আমেরিকা সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ। ইরান অল্প সংখ্যক জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আমেরিকা, ইজরায়েল বা তাদের সাথে থাকা কোনও দেশের জাহাজকে এখান দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। উদ্বেগ গোটা বিশ্বে। ভারতেও সঙ্কটের চেহারা ফুটে উঠছে। কিন্তু মোদীর ভূমিকা কি? ভারতের নাগরিকদের স্বস্তি দেবার তেমন কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে, এনিয়ে রাজনীতি করেই চলেছেন। মার্কিন তোষণের রাস্তা থেকে সরে আসা তাঁর পক্ষে কঠিন। অতীতে ইরান -ইজরায়েল সমস্যায় ভারত বরাবরই ইরানের পাশে থেকেছে। মোদীর ভারত কিন্তু ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছে। ইজরায়েল এখন ভারতের অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎস। হায়দরাবাদে ভারত-ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগে মোদী সুহৃদ আদানির কোম্পানি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। সরকার ইজরায়েল থেকে কেনা পেগেসাস সফটঅয়্যার ব্যবহার করেছে মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাই ভারত নিরপেক্ষ থাকবে কি করে, ইজরায়েলে আমেরিকার পক্ষ নিয়েছে। ভারতবাসী সঙ্কটে দিন গুনছে।
Comments :0