মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল ইসলামপুর পুলিশ জেলা। শুক্রবার রাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিশেষ অভিযানে ইসলামপুর শহরের চম্পাবাগের রেড লাইট এলাকা থেকে বিহারের ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম নুরজাহান বেগম, তাসলিমা খাতুন, মহম্মদ সলিম এবং মহম্মদ নিজাম। চারজনই ইসলামপুরের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর আসে যে বিহার থেকে একাধিক নাবালিকাকে পাচার করে চম্পাবাগ এলাকার রেড লাইট এলাকায় এনে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলামপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করে গোটা এলাকায় আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। একই সময়ে সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় গোপনে মোতায়েন করা হয়, যাতে অভিযুক্তরা পালানোর সুযোগ না পায়।
পুলিশের দাবি, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি শুরু হতেই কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে আগে থেকেই মোতায়েন করা পুলিশকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিহারের ১৭ জন নাবালিকাকে।
ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাকেশ সিং জানান, এটি মানবপাচার রোধে পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। প্রাথমিক তদন্তে একটি বড় আন্তঃরাজ্য মানবপাচার চক্রের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকেই বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ধৃত চারজনকে শনিবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার আরও জানান উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে কাউন্সেলিং, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তাঁদের কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ইসলামপুরে আনা হয়েছিল, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মানবপাচার চক্রের মূলচক্রী ও অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে একাধিক রাজ্যের যোগাযোগ থাকতে পারে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে মানবপাচারের মতো অপরাধ রুখতে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সংবেদনশীল অঞ্চলে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হচ্ছে। এই সফল অভিযানের ফলে একটি বড় মানবপাচার চক্রের কার্যকলাপের ওপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে চলে পুলিশের সার্চ অপারেশন, এই ধরনের অভিযান কোনোদিন হয়নি। চার দিক থেকে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা, ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ পথ দিয়েও নজরদারি চালানো হয়। এই অভিযানে মোট ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বেশিরভাগ নাবালিকা বিহারের বাসিন্দা। এদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এইসব জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
Comments :0