Narendra Modi vegetarian diplomacy.

‘নিরামিষ’ কূটনীতিতে জোর ধাক্কা বিশ্বগুরুর

জাতীয়

নৈশভোজ এড়ালেন শি জিনপিঙ ‘ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী’, মনে করালেন রাহুল
এবার যুদ্ধ থামানো নয়, নিরামিষ খাবারেই বিশ্বগুরুর চমক। দুর্গাপুজোয় আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক এবার ব্রিকসের সম্মেলনেও।
আন্তর্জাতিক অতিথিদের ডেকে এনে এবার তাঁদের উপরও নিজেদের মন-মরজি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলো। শনিবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু ঘিরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারতের বৈচিত্রময় খাদ্যসংস্কৃতিকে সঙ্কুচিত করে বিজেপি এবার বিদেশি অতিথিদের সামনেও নিজেদের খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দিয়েছে। শনিবার ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া নৈশভোজে রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের জন্য পরিবেশন করা হয় একাধিক নিরামিষ পদ।
এই ‘নিরামিষ’ কূটনীতির চাপে পরিস্থিতি এমন হয়েছে সম্ভবত মেনুর সমস্যায় মোদীর জাঁকজমকপূর্ণ ভোজসভায় না থেকেই চলে যেতে হলো চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙকে।  শনিবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শি জিনপিঙ। নয়াদিল্লিতে পৌঁছে মোদীর সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাদা বসেছেনও। তবে পরে সন্ধ্যার নৈশভোজে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। শি জিনপিঙের নৈশভোজে অনুপস্থিত থাকার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। কয়েকটি সূত্রের দাবি করা হয়েছে, বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তিনি হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রবিবার সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘রেকর্ডের জন্য—ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার সুস্বাদুও।’’ সঙ্গে বোনের তৈরি ছোলে ভাটুরের ছবি পোস্ট করে তাঁর মতো ‘এর মতোই সুস্বাদু’।
কংগ্রেসের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান পবন খেরা সরাসরি বিজেপি-কে নিশানা করে বলেন, ভারত বহু খাদ্যসংস্কৃতির দেশ। দেশের মানুষের উপর নিজেদের খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ইতিমধ্যেই ‘গভীরভাবে সমস্যাজনক’। এবার তা বিদেশি অতিথিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর প্রশ্ন, ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ব্রিকসের নৈশভোজের মেনু থেকে বাদ দেওয়া হলো কেন।
কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠানও বলেন, নিরামিষভোজনের প্রচার করতে চাইলে তা করা যেতেই পারে। কিন্তু ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধুমাত্র নিরামিষ মেনুতে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, মাটন, মুরগি ও মাছও ভারতের বৈচিত্রময় খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে ব্রিকসের প্রথম দিনের মেনুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নিরামিষ খাবারই গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবেশন করা হয়েছে পনির লাবাবদার, রাজমা রসেলা, ডাল পঞ্চমেল, মিলেট পুলাও, মকাই লাসুনি পালক, দম আলু বানারসি-সহ বিভিন্ন পদ। আন্তর্জাতিক খাবারের মধ্যে ছিল পেন্নে আল পোদোমোরো, মিলেট, হ্যারিকটস বিনস ও বেকড ভেজ অ গ্রাত্যাঁ। নৈশভোজের মেনুতে ছিল খাণ্ডভি মিলেট, খুম্ব গালৌটি, গুচ্ছি মারমিক, বিটরুট রায়তা, পুরানো দিল্লির ফল ক্রিম সহ জিলিপি এবং শাহদূত ফিরনি।
বিতর্কের জবাবে বিজেপি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে নিরামিষ খাওয়ানোকেও মোদীর মাহাত্ম্য হিসাবে তুলে ধরতে ব্যস্ত। দলের মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনের নীতিগত সাফল্য নিয়ে সমালোচনার কিছু না পেয়ে বিরোধীরা খাবারের মেনু নিয়েই ব্যস্ত। তুহিন সিনহার অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ‘তুচ্ছ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’। ভারতের ‘নিউ দিল্লি রেজোলিউশন’কে ঐতিহাসিক সাফল্য দাবি করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
হিন্দুত্বাবাদীরাও সমান আগ্রহে লম্ফঝম্ফ শুরু করেছে। ভিএইচপি যেমন মোদীর উদ্যোগকে ‘অবিস্মরণীয়’ বলে প্রশংসা করেছে। সংগঠনের মুখপাত্র বিনোদ বনসল ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য তুলে ধরায় মোদীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। বনসলের দাবি, ভারতের সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের প্রসারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ব্রিকসের নৈশভোজের মেনু নিয়ে এই বিতর্ক এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন বাংলায় দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণকে ঘিরে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির নানা বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক চলছে। ফলে নৈশভোজের মেনু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তাৎপর্য পেয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment