Minakhshi at CITU rally in Rishra

রুখে দাঁড়ানোর শপথ নিতে হবে, সিআইটিইউ সমাবেশে মীনাক্ষী

রাজ্য জেলা

রবিবার রিষড়া গালর্স স্কুল মাঠে ( পোড়া মাঠে) সিআইটিইউ সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মীনাক্ষী মুখার্জি। ছবি : অভীক ঘোষ।

অনন্ত সাঁতরা ও শুভ্রজ্যোতি মজুমদার: রিষড়া

আর এস এস-বিজেপি লাল ঝান্ডাকে ভয় পেয়েছে। তাই ওরা আমাদের আক্রমণ করছে। আজ সমাবেশ থেকে শপথ নিতে হবে ওদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। তখন ওরা পালিয়ে যেতে পথ পাবে না । রবিবার রিষড়া গালর্স স্কুল মাঠে ( পোড়া মাঠে) সিআইটিইউ হুগলী জেলা ১৪ তম সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ্য সমাবেশে কথাগুলি বলেন সিআইটিইউ অন্যতম রাজ্য নেত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী।  শুক্রবার ও শনিবার দু’দিন ধরে রিষড়া রবীন্দ্র ভবনে সিআইটিইউ হুগলি জেলা এই সম্মেলন হয়। সমাবেশে মীনাক্ষী মুখার্জী সহ  প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা দেবব্রত ঘোষ, সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম , সম্মেলন থেকে নবনির্বাচিত সম্পাদক তীর্থঙ্কর রায় ও অভ্যর্থনা সমিতির সম্পাদক সুদীপ সাহা। সমাবেশ পরিচালনা করেন শ্রমিক নেতা আব্দুল হাই।  
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, শিল্প কারখানায় উৎপাদন বজায় রাখতে বামপন্থীরা আরএসএস, পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করে। এ দেশের রাজনীতিতে বেকারের কাজের দাবি, গরিব মানুষের পেটের ভাতের লড়াই করে বামপন্থীরা। তিনি বলেন, মিড ডে মিল কর্মীরা ৩ মাসের মাইনে পাননি। বেকার ছেলেরা পাশ করে ট্রেনিং নিয়ে এ দরজায়-ও দরজায় ঘুরে বেড়ায়। তখন লড়াই করে সিআইটিইউ। 
তিনি আরও বলেন যে, যাঁরা এতদিন রাজ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সেই তৃণমূল নেতা কর্মীদের আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫ বছরে আইনের কোনও অনুশাসন ছিল না। এদিকে বিজেপি বুঝে গেছে লাল ঝান্ডাকে কোনোভাবেই তৃণমূলের মতো ম্যানেজ করা যাবে না। তাই লালঝান্ডাকে ওরা প্রচন্ড ভয় পায়। বিনা লড়াইয়ে আমরা এক ইঞ্চি মাটি ছাড়বো না। 
সমাবেশের মাঠ উপছে মানুষের ভিড়  সামনের জিটি রোড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। 
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা দেবব্রত ঘোষ বলেন "শুধু কারখানার মধ্যে মালিক শ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াই করলেই আন্দোলন সফল হবে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যে সমাজের ওপর ফ্যাসিবাদী আক্রমণ চলছে তাকে প্রতিহত করার লড়াই গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে ‘জয় শ্রীরাম‘ বলে। আসলে হিন্দু ধর্মকে বিকৃত করা হচ্ছে। হিন্দু ধর্ম মহৎ। রামকৃষ্ণ দেব বলেছিলেন, ‘যত মত তত পথ‘।
সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউর আলম বলেন, খামে ঢুকে গেল ঘাসফুল। আপনি চেঁচাবেন না। আপনার শাগরেদরা গেরুয়া রঙে রেঙেছে। এসআরআই নিয়ে বলেন, এখন আন্দোলনের তীব্রতা দেখে বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিলিটেড ভোটারদের নাম নাম তোলার কথা বলছে।  এখন ঘাঁটতে হচ্ছে ফেলা থুতু। 
এদিন সমাবেশ মঞ্চে সংগঠনের স্মরণিকা প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। 
তীর্থঙ্কর রায় বলেন, চটকলের একজন মালিক এককালে যারা মমতার সঙ্গে বিদেশে গিয়েছিলেন আজ খুললাম খুল্লা এখন বিজেপির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।  আমাদের লড়াই রাস্তায় দাঁড়িয়ে হবে। আমাদের দেশের ১৫ কোটির মানুষ যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে যিনি বাদ দিয়েছেন তাঁর পদত্যাগ করার সময় এসে গেছে। আমরা সংবিধান বাঁচাতে মানুষের অধিকার বাঁচাতে আমরা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চাই।  

Comments :0

Login to leave a comment