ক্ষমতায় আসার মাত্র ৩ মাসেই কোচবিহারের একাধিক গ্রামে বিজেপির নেতারা তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া, চাকরি দেবার নাম করে টাকা তোলা, অন্যের জমি পুকুর দোকানে ঝান্ডা লাগিয়ে টাকা আদায়ে তৃণমূলকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে! এমনই অভিযোগে বিজেপির ঝান্ডা হাতে মিছিল করলো তুফানগঞ্জের ধলপলে। মিছিলকারীদের অভিযোগ, দলের উঁচু স্তরের নেতাদের সবটা জানিয়েও লাভ হয় নি। বাধ্য হয়েই দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাকে সরাতে দলের পতাকা নিয়ে পথে নামতে হয়েছে!
মন্ডল সভাপতির অপসারণ দাবি করা বিজেপি কর্মী খগেশ্বর সরকারের বক্তব্য,অভিযুক্তর বিরুদ্ধে জমি দখল, দোকান বন্ধ করে দেওয়া, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য দিন কয়েক আগেই সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায় তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ধলপল -২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি নেতা যিনি আবার দলের নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকার মন্ডল সভাপতি মনোরঞ্জন বর্মন এক ব্যক্তির হাত থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিচ্ছেন। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি গণশক্তি ডিজিটাল। মিছিলকারিদের বক্তব্য এসব মেনে নেওয়া যায় না। দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে আমরা এই নেতার অপসারণ দাবি করেছি।
যে নেতাকে অপসারণের দাবিতে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করেছেন সেই নেতার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই ইনি একাধিক বাড়িতে গিয়ে তোলা আদায় করেছেন। এমনকি টাকা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের দলে আশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন বিজেপির সাধারণ কর্মীরা। অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই করেছেন নিজের মর্জি মত। এই অভিযোগ তোলেন বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অভিজিৎ পাল।
এদিকে টাকা নেওয়ার ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে অভিযুক্ত নেতা মনোরঞ্জন বর্মনের দাবি ভিডিওটি অনেক পুরোনো। তিনি যে টাকা গুনছেন সেই টাকা তার ব্যবসায়ী অংশীদারের দেওয়া টাকা। অবশ্য তিনি যে সাফাই দিন না কেন সাধারণ মানুষ তো বটেই তার দলের কর্মীরাও বলছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি গত তিন মাসেই যথেচ্ছ তোলাবাজি করে প্রচুর টাকা কামিয়েছেন। যার প্রমানও তাদের হাতে আছে।
এদিকে বিজেপির নেতা মনোরঞ্জন বর্মনের ভাইরাল আড়াই মিনিটের ভিডিও শোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া সুব্রত দাস এদিন বলেন, সাধারণ মানুষকে টোপ দিয়ে মোটা টাকা আত্মসাৎ করে এখন উনি সেটাকে ব্যবসায়ী অংশীদারের দেওয়া টাকা বলে চালাতে চাইছেন।
অভিযোগ আর পালটা অভিযোগের মধ্যেই এটা স্পষ্ট রাজ্যে বিজেপি শাসনের তিন মাসের মধ্যেই জেলার অনেক জায়গাতেই শাসক দলের নেতারা দেদার তোলাবাজি আর কাটমানি তুলছে। যাতে তিতিবিরক্ত সাধারণ মানুষ। ধলপলের ঘটনায় দলেরই একাংশ পথে নেমে যেভাবে বিক্ষোভে শামিল হয়েছে তাতে দেখার দলের জেলার নেতারা গোটা ঘটনাকে আড়াল করে নাকি অভিযুক্তকে দলের পদ থেকে অপসারিত করে। এদিকে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য দল ব্যবস্থা না নিলে ফের পথে নেমেই বিক্ষোভ চলবে।
Comments :0