Airstrikes in Myanmar’s Rakhine

বার্মায় বোমা বর্ষণ, সতর্কতা বাংলাদেশ সীমান্তে

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা  
বার্মার রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি আবারও দ্রুত অবনতি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে বার্মার সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলো প্রতিবেশী বাংলাদেশকেও সতর্ক করেছে। বার্মায় বোমা পড়ার সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক। আশঙ্কা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নতুন করে দেশত্যাগ। বাংলাদেশ আশঙ্কা করছে রাখাইনে হিংসা বাড়লে হাজার হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে আবারও সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বার্মার রাখাইন রাজ্যে আবারও তীব্র সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির জান্তা বাহিনী। সীমান্তঘেঁষা মংডু ও আশপাশের এলাকায় বিমান হামলা এবং ভারী গোলাবর্ষণের ঘটনায় টেকনাফ সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সীমান্তের ওপার থেকে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, হ্নীলা ও আশপাশের এলাকা। আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন সীমান্তের বাসিন্দারা। বার্মার সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাখাইনের সীমান্তবর্তী এলাকায় জান্তা বাহিনী ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সাধারণ মানুষের হতাহতের পাশাপাশি বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় আগুনের আভাও দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন। 
২ কক্সবাজার বিজিবির অধিনায়ক এই প্রতিনিধিকে জানান, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।  নাফ নদী, শাহপরীর দ্বীপ ও সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের শব্দ শোনা গেলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো গোলা বা মর্টার এসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়। 
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইনে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু বার্মার অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নয়। সরাসরি প্রতিফলন পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তেও। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
আন্তরর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বার্মার মংডো ও বুথিডং এলাকায় লাগাতার বিমান হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাস করেন। স্থানীয়রা বলছেন, এই বোমা হামলায় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। রাখাইনে আরাকান আর্মি এবং বার্মার সেনাবাহিনীর মধ্যে ইতোমধ্যেই একটি সংঘাত চলছে। একদিকে সামরিক বাহিনীর বোমাবর্ষণ এবং অন্যদিকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাপ। টেকনাফের একটি শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী এক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, ‘‘ক্রমাগত বিমান হামলায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ এলাকায় চলে যেতে চায়, কিন্তু তাদের সহজে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’’
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে বার্মার দুটি যুদ্ধবিমান বুথিডং এলাকায় বোমা ফেলে এক রোহিঙ্গা মহিলা ও দুই শিশু আহত হয়েছে। মংডোর এক বাসিন্দা জানান, বুধবারের হামলাটি বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে হয়েছিল, আর বৃহস্পতিবারের হামলাটি হয়েছিল কিছুটা উত্তরে। তিনি বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল আরাকান আর্মির অবস্থানগুলো, তবে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মানুষ রাখাইনের ভেতরেই নিরাপত্তা খুঁজছে, কিন্তু লড়াই তীব্র হলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।’’

Comments :0

Login to leave a comment