মজুত বোমার বিস্ফোরণে রাতের অন্ধকারে মাটিতে মেশে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সীমানা পাঁচিলের একাংশ। সেই পাঁচিলই রাতারাতি গেঁথে তাতে দিয়ে দেওয়া হয়ে রঙের পোঁচ। প্রমান লোপাটের এমন নজিরবিহীন ‘তৎপরতা’য় হতবাক সকলে! দুষ্কৃতী দাপট ও বেপরোয়া ঔদ্ধত্যের ধের সাক্ষী হয়েছে বীরভূম। বীরভূমের দুবরাজপুর থানার যশপুর গ্রামের ঘটনা ফের আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছে আইন শৃঙ্খলার অবনতি কোন চূলোয় পৌছেছে।
শুক্রবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা সাতটা। আচমকা বিকট শব্দে হতচকিয়ে যায় এলাকার মানুষ। আওয়াজের অভিমুখ লক্ষ্য করে এলাকার মানুষ এগিয়ে এসে দেখেন, যশপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাঁচিলের একাংশ মাটিতে মিশেছে। দুষ্কৃতী তান্ডবে জেরবার এলাকার মানুষের বুঝতে বিন্দুমাত্র দেরি হয় নি, কী ঘটেছে ? মানুষ চাক্ষুস করেন, ইঁটের টুকরো, পোড়া সুতলি ছড়িয়ে রয়েছে এদিক ওদিকে। মজুত বোমা ফেটেই উড়ে গিয়েছে দেওয়াল তা দেখে মানুষ ফিরে আসেন। কিন্তু সেই মানুষরাই রীতিমত তাজ্জব বনে যান পরদিন সকালে অর্থ্যাৎ শনিবার। দেখেন, ভগ্ন দেওয়াল উধাও। বরং রাতারাতি গাঁথনি উঠে গিয়েছে ইটের। তাতে পড়ে গিয়েছে চুনকামের পোঁচও। বোঝার উপায় নেই, কয়েক ঘন্টা আগেই এই দেওয়াল মিশেছিল মাটিতে। কোথায় পুলিশ ? জানেন না এলাকার মানুষ। কাদের রাখা বোমায় উড়েছিল দেওয়াল। স্বাভাবিকভাবেই নেই উত্তর। পুলিশকে জিজ্ঞাসা করা হলে, চেনা কায়দায় এড়িয়ে গিয়েছেন প্রশ্ন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভেঙে পড়া দেওয়াল।
উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সচল। প্রতিদিন মানুষের আনাগোনা রয়েছে। তবে বিস্ফোরণ স্থলটি কেন্দ্রের পরিত্যক্ত অংশ। সেদিকে মানুষের আনাগোনা কম। তাই এই জায়গাটিকেই মজুতস্থল হিসাবে বেছেছিল বোমা মজুতকারীরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, শাসকদলের একচ্ছত্র দখলদারিতে থাকা অন্যতম জনপদ এটি। ফলে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেলেও একান্ত গ্রামের একাধিক মানুষের মন্তব্য, ‘‘কারা বোমা রেখেছিল তা কি বলতে হবে।’’ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের ফলাফল চাক্ষুস করার সাথে সাথেই গ্রামের মানুষের তরফে খবর যাব পুলিশে। কিন্তু পুলিশি অভিযান দূর, বরং রাতারাতি ‘অভিযান’ চালিয়ে দাঁড় করানো হয় ভেঙে দেওয়ালটিই। এলাকারই এক ব্যক্তির কথায়, ‘‘পুলিশের সাথে যোগসাজশেই যে প্রমান লোপাটের এই উদ্যোগ বুঝতে পারছি সবাই।’’ ভেঙে পড়া দেওয়াল রাতারাতি ইটের গাঁথনি দিয়ে পুরোনো রূপ দেওয়ার চেষ্টাই শুধু নয়, নতুন গাঁথনি কাঁচা দাগ ঢাকতে তড়ঘড়ি রঙের পোঁচও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজদের মুক্তাঞ্চল না হলে কি এত বেপরোয়াপনার সাহস পান দুষ্কৃতীরা, বলছেন অনেকেই। গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়‘, ‘‘শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় বাইক নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনি। গিয়ে দেখি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। পাঁচিল ভেঙে পড়েছে। ভাগ্য ভাল যে কেউ আশেপাশে ছিল না। বড় বিপদ হতে পারত।” পাশেই রয়েছে স্কুল। সেই প্রত্যক্ষদর্শীই রীতিমত তাজ্জব বনেছেন সকালে দেওয়ালের ‘পুনরুদ্ধার’ দেখে। যশপুর পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তথা তৃণমূল নেতা পরিমল সাউ গা ঝেড়েছেন। বলেছেন, ‘‘এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। এটা দুষ্কৃতীদের কাজ। কারা রাতারাতি পাঁচিল তুলল বা রং করল, তা আমার জানা নেই। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।’’এখনও পুলিশ হদিশ দিতে পারে নি মজুতকারীদের গ্রেপ্তার তো দূর।
Comments :0