জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিভিন্ন ক্যাম্পাসকে কি জাত প্রথার কেন্দ্র বানাতে চাইছে দেশের সরকার? দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সভায় অংশ নিয়ে এই প্রশ্ন তুললেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত।
দিল্লির এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ উপাচার্যের জাত বিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে নামে। তাদের আক্রমণ করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। পুলিশের হেনস্তার শিকারও হতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের লাঠিপেটা করে বন্দী করে পুলিশ।
কারাত তার প্রতিবাদে বলেন, আজকে সারাদেশে জাত বৈষম্য বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে আওয়াজ আরো জোরালো করতে হবে
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর গ্রেপ্তার এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জাতবিদ্বেষী মন্তব্য করার প্রতিবাদে গত ২ মার্চ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তরফে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সিপিআই(এম)'র নেত্রী বৃন্দা কারাত।
বৃন্দা কারাত বলেন, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর যেভাবে দিল্লি পুলিশ হামলা চালিয়েছে,এটা খুবই নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা খবর পেয়েছি, ছাত্র সংসদের যুগ্ম সভাপতি দানিশকে এমনভাবে মেরেছে যে ওর পা ভেঙে গিয়েছে, এখন প্লাস্টার করা হয়েছে। ছাত্রীদের সঙ্গে পুরুষ পুলিশরা এমন অভব্য আচরণ করেছেন, আমরা কঠোরভাবে তার নিন্দা জানাচ্ছি। এখনো আমাদের এক সহযোদ্ধা ভিকি কুমার জেলে বন্দি রয়েছেন, ওনার মুক্তির জন্য ও আমরা দাবি জানাচ্ছি। ভারতীয় সংবিধানকে রক্ষা করার লড়াই করায় ওঁদেরকে বন্দি করা হয়েছে, জাতপাতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য ওদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এরপরেও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বলছে, আমাদের যতই লাথি মারো, আমাদের যতই জেলে ভরো, জাত প্রথার বিরুদ্ধে আমরা আওয়াজ তুলবই। এই কারণে আমি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কুর্নিশ জানাই। জাতপ্রথার সমর্থনকারী উপাচার্যের পদত্যাগের যে দাবি আপনারা করেছেন তার সমর্থনে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।
কারাত বলেন, সব জায়গায় এই জাত বৈষম্যের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। দুঃখের বিষয় জাত বিভাজনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার বদলে জাতপাত প্রথাকে সমর্থন করছেন উপাচার্য। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও জাত বৈষম্যের মতো ঘৃণ্য ঘটনা দেখা যাচ্ছে ভারতের সব জায়গায়। আমি জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বলতে চাই, আপনি সম্পূর্ণভাবেই একটি কল্পনার জগতে বসবাস করছেন । আপনি আপনার মনুবাদী সংস্কারের চশমার কারণে দেখতে পাচ্ছে না এই জাতের বৈষম্য কিভাবে ভারতীয় সংবিধানকে এবং সংবিধানের ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। কিভাবে একজন উপাচার্য বলতে পারেন যে বর্তমানে আক্রান্ত বলে দলিতদের একটি আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। রাধিকা
ভেমুলার ছেলেকেও একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে জাত বৈষম্যের কারণে হত্যা করা হয়েছিল। আপনি রাধিকা ভেমুলার চোখে চোখ রেখে বলুন যে উনি কল্পনার জগতে বসবাস করছেন। ডাক্তার পায়েলের মায়ের কথা মনে করুন তার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। যে কারণে সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসিকে জাত বৈষম্যের বিরুদ্ধে নতুন গাইডলাইন আনতে বলে এবং এক বছরের মধ্যে ইউজিসি সেই নির্দেশিকা নিয়েও আসে। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জাত ভিত্তিক বৈষম্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাহলে কি সুপ্রিম কোর্টও কল্পনার জগতে বসবাস করছে?
কারাত বলেন, যদিও ইউজিসি’র সেই গাইডলাইন খুবই স্থূল। আমরা তার বদলে রোহিত ভেমুলা আইন আনার কথা বলেছি। পার্লামেন্টে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইউজিসি গাইডলাইন কমজোর বলেই ভাইস চ্যান্সেলর ম্যাডাম এই ধরনের ঘৃণ্য কথা বলতে পারছেন। ওনার এই জাত বৈষম্যের ধারণা মনুবাদী সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই আমরা ওনার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ওই উপাচার্য একটি পডকাস্টে গর্বের সঙ্গে বলেছেন উনি ছোটবেলা থেকেই আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। উনি বলছেন স্কুল যাবার সময় থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য ছিলেন তিনি। উনি বলছেন তিনি বিজেপি এবং মোদী সরকারের একজন সমর্থক। শুধু এটুকুই নয়, ক্যাম্পাসের তথা বামপন্থার বিরুদ্ধে ওই পডকাস্টে উনি বিষোদ্গার করেছেন। উনি ক্যাম্পাসের মধ্যে বামপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে দক্ষিণপন্থীদের কিভাবে কাজ করতে হবে সে বিষয়ে এটি স্ট্র্যাটেজিও বলে দেন। এটা কোন উপাচার্যের বক্তব্য হতে পারে কি? উনি একজন উপাচার্য নাকি বিজেপি আরএসএস'র প্রবক্তা? যখন জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কোন পডকাস্টে গিয়ে শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার কথা বলেন না বরং সেই অনুযায়ী ক্যাম্পাসের মধ্যে কাজ করারও কথা বলেন, তখন তা সমাজের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কারাত আরও বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে, যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে তখন ভারত সরকারের ভূমিকা কি? জাত বৈষম্যকে বাঁচিয়ে রাখা? আপনি দলিত আদিবাসীদের কাছে গিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করেন, আর এখানে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যে যখন কোন দলিত আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রী জাত বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন সেখানকার উপাচার্য তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নেয়, আর সরকার সেই উপাচার্যকে সুরক্ষা দেয়। পুলিশ ছাত্রদের উপর আক্রমণ শানায়। মোদী সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে যে মনুবাদী মনোভাবের কারণে কি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতপ্রথার কেন্দ্র বানাতে চাইছে?
কারাত বলেন, এলাহাবাদ, দিল্লির মতো বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে বলা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা কোন বিষয়ে প্রতিবাদ জানতে পারবেন না। আলিগড়, জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তো একই ঘটনা ঘটেছে। যখন ছাত্র-ছাত্রীরা এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে তখনই তাদেরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যে প্রশ্ন তুলেছে তা শুধুমাত্র এখানের প্রশ্ন নয়, এই প্রশ্ন জাত বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি আওয়াজ। তাই এই প্রশ্নকে আরো জোরদার করে তুলতে হবে। আমরা পাশে র
Brinda Karat
সব ক্যাম্পাসকে জাত বৈষম্যের কেন্দ্র বানাতে চাইছে মোদী সরকার: বৃন্দা কারাত
জেএনইউ- র ছাত্ররা মুক্তি পাওয়ার পর।
×
Comments :0