Md Salim

বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ বেআইনি, চলবে প্রতিরোধ: সেলিম

রাজ্য জেলা

অনিন্দিতা দত্ত : শিলিগুড়ি  

বুলডোজার চালু আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ফাসিস্ত শক্তির বহিঃপ্রকাশ। আধিপত্য ও শক্তির প্রদর্শন। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার পিছনের দরজা দিয়ে তৃণমূলের অপশাসনই ফিরিয়ে আনছে। 
শুক্রবার শিলিগুড়িতে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন পার্টির জেলা কমিটির সভায় যোগ দেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে মহম্মদ সেলিম বলেছেন, নতুন সরকারের বয়স দুই মাস। অনেক ঘোষণা করেছে। ভালো ভালো সিদ্ধান্ত জানতে পারছি। কিন্তু যেভাবে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে রাজনৈতিক দল ও পরবর্তীতে রেল, সরকার ও পৌরসভা হিসেবে নেমে পড়েছে, এটা একটা ফ্যাসিস্ত শক্তির প্রতীক। দেশ চালাতে হবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী। 
তিনি জানান যে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ হচ্ছে বেআইনিভাবে। তূার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি থাকবে। উল্লেখ্য, আগামীকাল, ৪ জুলাই, শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে শ্রমজীবীদের নিয়ে উচ্ছেদ বিরোধী মিছিলের ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটি।
সেলিম বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ঠিক কতটা অপদার্থ ছিলো তার প্রমাণ হচ্ছে বিধানসভার ভোটের পর হুড়মুড় করে জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সাংসদরা পালিয়ে যাওয়ায়। একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ না থাকলে শুধু লুট, দুর্নীতি, মস্তানি করে ভেগে গিয়ে পরিত্রাণ মিলবে না। আর আজকের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছিলেন তৃণমূলের নেতা। সেই শুভেন্দুই তৃণমূলের পতাকা গুটিয়ে বিজেপি’র নেতা হয়ে বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। 
মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের জমানার দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেলিম তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ১০০দিনের কাজ, আবাস যোজনা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির কথা নিয়ে রাজ্য কেন্দ্রকে ও কেন্দ্র রাজ্যকে দোষারোপ করছিলো। আমরা গত পাঁচ বছর ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি করছি। 
সেলিম বলেন, অভয়া কান্ডে বাবা মায়ের অভিযোগ সিবিআই ঠিকমতো তদন্ত করছে না। আবার, অভিষেক ব্যানার্জির  বিদেশে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের আকাউন্ট ডিটেলস জানলেও ইডি-সিবিআই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্ত এগোয়নি। 
তিনি বলেন, রঙ্গ তামাশা বা দলতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র এবং আইনকে মেনে সঠিক পথে তদন্ত করা হোক। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরেও উত্তরবঙ্গে চা বাগান, জুট মিল বন্ধ হচ্ছে।  কলকাতা নয়, শিলিগুড়ি সংলগ্ন উত্তরকন্যা থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা হবে এমনটাই বলা হয়েছিলো। মমতাও আসতেন। বলতেন পাহাড় হাসছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
সেলিম বলেন, পাহাড় তরাইয়ের চা বাগান, পর্যটন, পরিবহন, নদী, বাঁধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা যাই হোক না সেগুলির সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে। 
সেলিম বলেন, রেল কলোনি, বস্তিবাসী, স্টেশন, প্ল্যাটফর্মে, চলন্ত ট্রেনে হকারি করে। এই হকারির সঙ্গে ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক কারণ আছে। রাতারাতি এটাকে বুলডোজার দিয়ে শেষ করা যাবে না। দেশভাগের শিকার হয়েছি আমরা। তিনি বলেন, এখানে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের প্রয়াসে লাল ঝান্ডাকে নিয়ে কলোনি নির্মান করে আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ইউসিআরসি’র আন্দোলন সংগঠিত হয়। এখানে এখন ঝাড়গ্রাম থেকে দিল্লি পর্যন্ত ঝালমুড়ি নিয়ে নাটক চলছে। বাংলার ব্র্যান্ড করে দেওয়া হয়েছে ঝালমুড়িকে। অথচ মুড়ি নিয়ে যারা কারবার করে সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতার জীবন জীবিকায় আঘাত নেমে আসায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। 
তিনি বলেন, শিলিগুড়িতে বস্তিবাসীদের লিজ দেওয়া হোক এই দাবিতে শুরু থেকেই আমরা আন্দোলনে আছি। বলা হচ্ছে রেলের জমি থেকে সব উচ্ছেদ তুলে দেওয়া হবে। মূল প্রশ্ন হলো, রেলের জমি কোথা থেকে হলো। কে ঠিক করেছে। বুলডোজার এই জন্য আনা হয়েছে কারন আইনি লড়াই লড়তে চায় না। হকার উচ্ছেদ করছে বেআইনিভাবেই। কোর্টে এমন জমির অনেক কেস আছে ১৫০ বছর ধরে চলেছে। যে কৃষক ছিলো তাদের চতুর্থ জেনারেশন ওই জমিতে ঝুপড়ি করে বাস করছে।

Comments :0

Login to leave a comment