Burikhola

ডুয়ার্সের আড়ালে প্রকৃতির আরেক ঠিকানা বুড়িখোলা

জেলা

দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
ভিড়ভাট্টা আর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে একটু নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর আরেক ঠিকানা ডুয়ার্সের বুড়িখোলা। পাহাড়ি নদী, ঘন জঙ্গল, মনোরম পরিবেশের মাঝে একটিমাত্র হোমস্টে - প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গীয় ঠিকানা। এখনও বহু পর্যটকের কাছে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত এই এলাকা ধীরে ধীরে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ছে। কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের অন্তর্গত বুড়িখোলা গ্রামকে ঘিরে রয়েছে সবুজ পাহাড়, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও ঘন জঙ্গল। শাকাম ফরেস্ট এলাকার মাঝেই পাহাড়ি নদীর ধারে রয়েছে মনোরম একটি পিকনিক স্পট। পাহাড় থেকে নেমে আসা বুড়িখোলা নদীর স্বচ্ছ স্রোত আর পাথুরে নদীখাত এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বুড়িখোলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, একটিমাত্র গন্তব্যেই মিলছে জঙ্গল, পাহাড়ি নদী এবং চা-বাগানের তিন রকম প্রাকৃতিক পরিবেশ। নদীর ধারে বসে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করা, বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ছুটির দিন কাটানো কিংবা পিকনিকের আনন্দ—সবকিছুরই সুযোগ রয়েছে এখানে। চারপাশের জঙ্গলের নিস্তব্ধতা, চা-বাগানের সবুজ ঢেউ আর নদীর কলকল শব্দ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম পরিবেশ।
বুড়িখোলায় পৌঁছনোরও রয়েছে একাধিক পথ। মালবাজার পেরিয়ে সোনগাছি চা-বাগান ও নাকটি ডিভিশনের রাস্তা ধরে পৌঁছনো যায় এই গন্তব্যে। আবার গরুবাথানের দিক থেকে ভুট্টাবাড়ি বনাঞ্চল পেরিয়েও বুড়িখোলায় যাওয়া সম্ভব। পথে এগোতে এগোতে বদলে যেতে থাকে চারপাশের দৃশ্য—কখনও চা-বাগানের সবুজ প্রান্তর, কখনও ঘন বনাঞ্চল, আবার কোথাও পাহাড়ি পথের মাঝ দিয়ে উঁকি দেয় নদীর স্রোত।
পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলির মতো এখনও বুড়িখোলায় অতিরিক্ত ভিড় নেই। আর সেই নির্জনতাই এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টা প্রকৃতির কাছাকাছি কাটাতে কিংবা ছুটির দিনে একটু ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণের সন্ধানে থাকলে বুড়িখোলা হতে পারে আদর্শ ঠিকানা।
চা-বাগানের সবুজ, জঙ্গলের নিস্তব্ধতা আর পাহাড়ি নদীর কলকল—ডুয়ার্সের এই তিন সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে একবার ঘুরে আসাই যায় আড়ালে থাকা এই সুন্দর গন্তব্য বুড়িখোলা থেকে।

Comments :0

Login to leave a comment