Trump Oil Polit Bureau

তেল কিনতে ট্রাম্পের ‘অনুমতি’ সবচেয়ে বড় লজ্জা দেশের, বলল সিপিআই(এম)

জাতীয়

স্বাধীনতার পর এমন লজ্জাজনক অবস্থায় দেশ কখনও পড়েনি। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে ‘ত্রিশ দিন ছাড়ের’ ঘোষণা প্রসঙ্গে একথা বলেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো।
পলিট ব্যুরোর দাবি, ত্রুটি শুধরাতে এখন যুদ্ধ থামানোর আবেদন করুক মোদী সরকার। যাতে শান্তি ফিরে আসে। দেশের আত্মসম্মান ফিরিয়ে আনা যায়। 
আমেরিকার অর্থ সচিবের বিবৃতি ঘিরে দেশে এবং বিশ্বে চরম বেইজ্জতির মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। স্কট বেসেন্টের বিবৃতিতে বলা হয় যে ‘সাময়িক ৩০ দিন ছাড় দিয়ে ভারতকে পরিশোধনাগারের জন্য তেল কেনার অনুমতি দিচ্ছে অর্থ দপ্তর। ’
সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘ভারত আমেরিকার আবশ্যিক অংশীদার দেশ। আমেরিকা থেকে তেল কেনা ভারত বাড়াবে বলেই আশা করা হচ্ছে।’
দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকা ভারতকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়ার কে? 
সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি বলেছেন, ‘‘কবে থেকে দেশের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অন্যের অনুমতি দরকার হয়ে পড়েছে? চরম লজ্জাজনক এমন অবস্থা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কখনও হয়নি।’’
বেবি বলেছেন, ‘‘সরকারকে জানাতে হবে আমরা এখনও স্বাধীন না আমেরিকার তল্পিবাহকে পরিণত হয়েছি।’’
সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, ‘‘ভারতের সার্বভৌমত্ব কারও অনুমোদনের বিষয়ই নয়। তেল আমদানির জন্য আমেরিকার অনুমতি চাইছে ভারত, এমন পরিস্থিতিই অভাবনীয়। কার সঙ্গে কী নিয়ে বাণিজ্য করবে তা একেবারেই ভারতের নিজস্ব বিষয়। আমাদের জাতীয় মর্যাদা এবং জ্বালানি সুরক্ষা কোনও ‘সুপারপাওয়ারের‘ অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে না।’’ 
দেশের স্বাধীন বিদেশনীতিকে বিসর্জন দেওয়ার জন্য মোদী সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেসও। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মোদী সরকারের জবাবদিহি দাবি করেছেন।
পলিট ব্যুরো বলেছে, ‘‘আমেরিকা-ইজরায়েল বেআইনি যুদ্ধ চাপিয়ের ঘটনায় মোদী সরকার নিশ্চুপ। ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতিকে খর্ব করা হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং জোট নিরপেক্ষতার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে দুর্বল করা হচ্ছে। মোদী সরকারের এই ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দার।’’ 
ভারতের বিশাখাপত্তনমে যৌথ নৌমহড়া থেকে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে ইরানের জাহাজকে ডুবোজাহাজ থেকে সাবমেরিন ছুঁড়ে ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। ভারত ইরানের জাহাজকে নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করেনি। উলটোদিকে ইরানের অপর একটি বিপনডন জাহাজকে নিজেদের তটরেখায় দেখে উদ্ধারে ঝাঁপিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকায় থাকা ভারতের এই ভূমিকারও নিন্দা করেছে পলিট ব্যুরো। 
পলিট ব্যুরো বলেছে যে যুদ্ধ শুরু করার ঠিক আগে ইজরায়েলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরও বুঝিয়ে দিচ্ছে যে স্বাধীন বিদেশনীতি আমেরকার কাছে বন্ধক দিয়েছে 
পলিট ব্যুরো বলেছে যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করে ইরান। তেল এবং গ্যাস পরিবহণের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হওয়ায় ভারতের জ্বালানি সুরক্ষা অনিশ্চিত। এই সময়ে, দয়া করার মতো করে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো, আমেরিকার এক আধিকারিক পরিষ্কার বলেছেন যে ভারতকে চীনের সমান ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। বুঝিয়েই দেওয়া হয়েছে যে বাণিজ্য চুক্তিতে কেবল নিজেদের স্বার্থকেই রক্ষা করেছে আমেরিকা।

Comments :0

Login to leave a comment