Modi Iran

প্রশ্নের চাপে সরকার

সম্পাদকীয় বিভাগ

মধ্যপ্রাচ্যে  ইরান ইজরায়েল-মার্কিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে লোকসভায় বহু কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  বললেন, ভারত অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ানোর দিকে নজর রেখেছে। অনেক মজুতও নাকি রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে দেশে জ্বালানি সঙ্কট না হয়। এতো সবই কথার কথা, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নির্দিষ্টভাবে গ্যাস নিয়ে একটা কথাও নেই। অথচ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রান্নার গ্যাসের হাহাকার চলছে গোটা দেশ জুড়ে। বাড়িতে বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট। গ্যাস নির্ভর পরিবহণেও সঙ্কট। একের পর এক আটো রুটে সমস্যায় নাজেহাল নিত্য যাত্রীরা। সমস্যা সুরাহা তো দূরের কথা প্রধানমন্ত্রী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাফাই দেবারও সাহস দেখাননি। সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে এক ধাক্কায় গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ২০০০ এর কাছাকাছি। বিভিন্ন জায়গায় কালোবাজারে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ২,২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। 
যুদ্ধের কারণেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যার ফলে আটকে আছে বহু জাহাজ। কুটনৈতিক আলোচনার পর জ্বালানি ভর্তি দুটি জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছেছে। এতে সমস্যার কতটা সুরাহা হবে, উত্তর নেই।  লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত থামানো সম্ভব। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল কার্যত অনৈতিকভাবে হামলা চালিয়েছে ইরানের ওপর। উপলক্ষ ইরানের পরমাণু গবেষণা বন্ধ করার মার্কিন চাপ। ইরান তা বন্ধ না করায় তার ওপর ইজরায়েল-মার্কিন হামলা । কেন্দ্রকে কখনও ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলতে শোনা যায়নি। প্যালেস্তাইনের ওপর যখন ইজরায়েলের আগ্রাসন চরমে, তখনও নীরব থেকেছে মোদী সরকার।
প্রশ্ন এখানেই থেমে নেই। মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে রান্নার গ্যাসে ক্রমে পাকাপাকিভাবে ভরতুকি তুলেই দিয়েছে। তবু কেন ভরতুকিতে খরচ ৩৭৫ কোটি টাকা?  গ্রাহক তো পায়না ভরতুকি। কোথায় যায় এই ভরতুকির টাকা? 
প্রশ্ন আরও যে ২০২০-২১ সালে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক আ্যাকাউন্টে সরাসরি ভরতুকির টাকা জমা পড়তো। এখন ভরতুকির কোনও টাকা ব্যাঙ্ক আ্যাকাউন্টে জমা পড়ে না। ভরতুকির সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে? তা কি লোপাট? তাই  যুদ্ধের সময়ে ফের রান্নার গ্যাসে ভরতুকি ফিরিয়ে আনার দাবি তুলছেন বিরোধীরা। উল্লেখ্য, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ইউপিএ সরকার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লেও কম দামে তা সরবরাহে সমানুপাতিক হারে ভরতুকি বৃদ্ধির ব্যবস্থা রেখেছিল। ২০১৪ সালে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে সিলিন্ডার  ১১২০ টাকা হয়। অথচ গ্রাহককে ৪০০ টাকায় রান্নার গ্যাস সরবরাহ করতো  প্রতি সিলিন্ডারে ৭০০ টাকা ভরতুকি বৃদ্ধি করে। মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে এই ভরতুকি ধাপে ধাপে তুলে নেয়। এখন যুদ্ধ আবহে মোদীর ভরতুকি তলে দেওয়ায় এখন গ্যাসের দাম আরও চড়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ মমতা ব্যানার্জির সরকারের বিরুদ্ধেও কিছু কম নয়। জ্বালানি থেকে বহু টাকা কর এবং সেস হিসাবে তুলে নেয় বাংলার সরকার। দাম বাড়লে তার সুবিধা নেয় সবচেয়ে বেশি। এই চড়া হারের সুবিধা নেওয়া হয় কোনও ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ। কোনও ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ। যার ফলে জ্বালানি আরও বেশি দামে গ্রাহককে নিতে হয়। সঙ্কটের এই আবহে রাজ্য সরকার কেন এই সেস তুলে দিয়ে গ্রাহককে স্বস্তি দেবে না?

Comments :0

Login to leave a comment