চলতি অর্থবর্ষের প্রথম দু’মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পদ বিক্রি করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
চলতি অর্থবর্ষ, ২০২৬-২৭’র জন্য বিলগ্নিকরণ বাবদ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে এই দু’মাসেই।
সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটের কারণে ভরতুকির চাপ বাড়ছে কোষাগারে। বিলগ্নিকরণের মতো কর বহির্ভূত আয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট চাপিয়েছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এই দুই দেশের বিপক্ষে মুখ বিন্দুমাত্র খোলেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম এবং সারের জোগানের গুরুতর সঙ্কটের কারণ এই যুদ্ধ।
জানা গিয়েছে, আরও প্রায় ৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা তোলা হয়েছে সম্পদের নগদীকরণ বা ‘মনিটাইজেশন’ থেকে। এই কৌশলে সরকারি সম্পত্তি বেসরকারি হাতে লিজ দিয়ে অর্থ তোলা হয়।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সার মন্ত্রক বাজেট বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুন ভরতুকির জন্য আবেদন জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রকে। কেন্দ্রীয় বাজেটে সারের ভরতুকির জন্য বরাদ্দ ছিল ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা।
ভারতে কৃষির ক্ষেত্রে সারের সঙ্কট গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর বাড়ছে জ্বালানির দাম।
মোদী সরকারের দাবি, পেট্রোপণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির জন্য। সরকারকে ১.২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড় দিতে হয়েছে।
ভারতে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। কিন্তু তা থেকে পেট্রোপণ্যের বেশিভাগই তৈরি হয় দেশে। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থা এই ছাড় পায়।
এর মধ্যেই দফায় দফায় পেট্রোপণ্যের দাম বাড়িয়েছে তেল সংস্থাগুলি। বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। নরেন্দ্র মোদী সরকার রান্নার গ্যাসে ভরতুকি প্রায় তুলে দিয়েছে। যে কারণে চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
তবে সরকারের দাবি তেল সংস্থাগুলি দিনে প্রায় ৭০০ টাকা কম আয় করছে। ফলে এই সংস্থাগুলিকে ভরতুকি দিতে হবে।
জাতীয় স্তরে সংবাদমাধ্যমে অর্থ মন্ত্রকের আধিকারিকরা বলছেন যে অর্থ মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
Disinvestment Centre
দু’মাসে ২০ হাজার কোটির বিলগ্নি কেন্দ্রের, মনিটাইজেশন ৬ হাজার কোটির
×
Comments :0