Dhupguri

শ্রদ্ধায়-শপথে ধূপগুড়িতে পালিত পঞ্চশহীদ দিবস

জেলা

২০০২ সালের ১৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ধূপগুড়ির সিপিআই(এম) দপ্তরে কেএলও উগ্রপন্থীদের হামলায় শহিদ হন পাঁচ বামপন্থী কর্মী এবং আহত হন আরও ১২ জন। উত্তরবঙ্গকে বিভক্ত করার চক্রান্ত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী পঞ্চশহীদের স্মরণে সোমবার ধূপগুড়িতে পালিত হলো পঞ্চশহীদ দিবস। দিনভর শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পার্টি, গণসংগঠন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি হয়। উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরাও।
সকাল থেকেই বিভিন্ন শাখা এলাকায় শহীদ বেদিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সকাল ৯টায় ধূপগুড়ি সিপিআই(এম) এরিয়া কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করে শহীদদের স্মরণ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন পার্টির জেলা ও এরিয়া নেতৃত্ব।
২০০৩ সাল থেকে পঞ্চশহীদ দিবসে ডিওয়াইএফআই-এর উদ্যোগে ধূপগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে আয়োজিত হয়ে আসছে বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। এবার সাঁকোয়াঝোড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওমালিতে শিবিরে এক হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। জলপাইগুড়ি জেলার চিকিৎসকদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আটজন চিকিৎসক এবং শিলিগুড়ি গ্রেটার লাইন্স ক্লাব চক্ষু হাসপাতালের একটি দল পরিষেবা দেয়।
শিবিরে ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা, রাজ্য কমিটির সদস্য সপ্তর্ষি দেব, জেলা সভাপতি অর্পণ পাল, সম্পাদক বেদব্রত ঘোষ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জেলা নেতৃত্ব মুকুলেশ রায় সরকার, নূর আলম, জয়ন্ত মজুমদার, প্রাক্তন বিধায়ক মমতা রায়-সহ পার্টির প্রবীণ নেতৃবৃন্দ।
পঞ্চশহীদ স্মরণে ধূপগুড়ি এরিয়া দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সেখানে বক্তারা বলেন, উগ্রপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনের সংগ্রাম আগামী দিনেও মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতির লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে। বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম)-এর জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র।


সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ‘জ্বালো ঐক্যের আলো জ্বালো’ আহ্বানকে সামনে রেখে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং পার্টি কার্যালয়ের সামনে পাঁচটি করে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে ধূপগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা।
শহীদ সুবল রায়ের স্ত্রী যশোদা রায়, শহীদ গণেশ রায়ের স্ত্রী গীতা রায়, শহীদ দুলাল রায়ের স্ত্রী অলকা রায় এবং শহীদ গোসাই শীলের স্ত্রী মায়া শীল-সহ শহীদ পরিবারের সদস্য এবং হামলায় আহত ও অঙ্গহানি হওয়া কমরেডরা নিজ হাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দক্ষিণ কাঠুলিয়া, কালিরহাট, ময়নাতলি, ভাউকিমারি, আলতা গ্রামের টেংরাপাড়া বাজার, গাদং ক্লাব মোড় এবং গয়েরকাটা চা-বলয়েও প্রদীপ জ্বালিয়ে পঞ্চশহীদকে স্মরণ করা হয়। কর্মসূচিতে ছিলেন যুব নেতা নির্মাল্য ভট্টাচার্য, বলরাম বসাক, পার্থ ব্রহ্ম-সহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব।

Comments :0

Login to leave a comment