Digital Transactions and Charge

নির্ভেজাল প্রতারণা

সম্পাদকীয় বিভাগ

একেই বলে গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া। নরেন্দ্র মোদীর সরকার প্রথমে মানুষকে উৎসাহিত করে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তুলেছে। এখন প্রতিদিনের আর্থিক লেনদেনের একটা বড় অংশই নগদ টাকার বদলে ডিজিটাল ব্যবস্থায় হচ্ছে তখন সরকারের বানিয়া মানসিকতা ঝোঁপ বুঝে ডিজিটাল লেনদেনকারীদেরই ঘাড়ে কোপের ব্যবস্থা করে ফেলেছে। আইন সংশোধন করে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনকারীদের টাকার অঙ্কের উপর একটা নির্দিষ্ট হারে শুল্ক বা চার্জ বসাবার বন্দোবস্ত করেছে। অর্থাৎ প্রথমে মানুষকে নিখরচায় ডিজিটাল লেনদেনের লোভ দেখিয়ে অভ্যস্ত করে তুলে এখন ঘাড় ধরে কর আদায় হবে। এটা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু নয়। অনেকটা ফাঁদ পেতে শিকার ধরার মতো। ভালো ভালো কথা বলে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে এখন পেছন থেকে ছুরি মেরে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে।
ইউপিআই ব্যবস্থায় দেশি-বিদে‍‌শি বহু সংস্থা ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। এখন চা, ফুচকা, ঝালমুড়ি খেয়েও মানুষ অন লাইনে পে‍‌মেন্ট করেন। বাজারে মাছ-সবজি কেনাকাটাতেও ঢালাওভাবে চলে ডিজিটাল লেনদেন। নগদ টাকার ঝক্কি কমাতে সরকার নিজেই ডিজিটাল লেনদেনে মানুষকে উৎসাহিত করতে উঠেপড়ে নামে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এর মুখ্য প্রচারকের ভূমিকায় নামেন। বেসরকারি পেমেন্ট সংস্থার বিজ্ঞাপনের কাজেও মোদী নিজেকে যুক্ত করেন। সরকার নিজ উদ্যোগে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিকাঠামো গড়ে তোলে।
এখন সরকার বলছে এই ব্যবস্থা চালু রাখতে এবং উত্তরোত্তর আরও উন্নত করতে অর্থ ব্যয় করবে না। ডিজিটাল লেনদেনকারীদেরই খরচার দায় বহন করতে হবে। অর্থাৎ অনলাইন পেমেন্ট করতে হলে নিজের ট্যাঁক থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচা করতে হবে। অর্থাৎ বিষয়টাকে সরকার আর জনপরিষেবা হিসাবে দেখতে চাইছে না। দেখতে চাইছে ব্যবসা হিসাবে। পরিষেবা নিতে গেলে চার্জ দিতে হবে। তেমনি দেশি-বিদেশি যে সব প্ল্যাটফর্ম এই পরিষেবা দেয় (পেটিএম, ফোনপে, গুগুল পে, আমাজন পে ইত্যাদি) তারাও চাইছে চার্জ বসানোর সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা কামাতে। এদের তরফে অনেক দিন ধরেই সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মোদী সরকার সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কর্পোরেটের ঘরে বাড়তি মুনাফা হিসাবে জমা করার ব্যবস্থা করেছে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লেনদেনে শুল্ক চাপানোর পেছনে আরও বড় খেলোয়াড় হিসাবে কাজ করেছে নরেন্দ্র মোদীর পরম বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা। গত দেড়-দুই বছর ধরে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে ম্যারাথন আলোচনা চলছে তার অন্যতম একটি ইস্যু এটা। নিখরচায় ইউপিআই ব্যবস্থা সাধারণ লেনদেনের সুবিধা হলেও মার্কিন সংস্থার ভিসা, মাস্টার কার্ডের ব্যবসা সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। চার্জ চালু হলে প্রতিযোগিতায় তাদের সুবিধা হবে। আবার যে মার্কিন বহুজাতিক ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিষেবা দেয় তাদের মুনাফা বাড়বে। তাই প্রধানত বন্ধু ট্রাম্পের চাপে মোদী সরকার বাধ্য হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেনে শুল্ক চাপাতে।

Comments :0

Login to leave a comment