CPI-m on Sohrawardi Avenue

‘ইতিহাস বিকৃতির বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’, রাস্তার নাম বদলের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানালেন সেলিম

রাজ্য কলকাতা

সোহরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউর নামকরণ অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির নামে করা হয়নি। করা হয়েছিল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দির স্মৃতিতে।
সোহরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একথা বলেছে সিপিআই(এম)। নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন যে ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
এক বিবৃতিতে সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন , মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
সোহরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে রবিবার টুইট করেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম বদলে গোপাল মুখার্জির নামে রাস্তাটির নামকরণ হয়। 
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাঁর টুইটে বলেন,  ‘কলকাতা কর্পোরেশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কয়েক দশক ধরে কলকাতা শহরের বিভিন্ন রাস্তার নাম এমন কিছু ব্যক্তির নামে ছিল যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। গোপাল মুখার্জি সেই সময় এগিয়ে এসে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন।’
১৯৪৬-র সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উসকে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সে সময়ে ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দিকেই ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ জন্য টুইটে তিনি দায়ী করতে চেয়েছে বলে মনে করেন বহু অংশ। 
সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম  বলেছেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কি এই প্রাথমিক ঐতিহাসিক তথ্যটুকুও জানেন না? যদি না জেনে থাকেন, তাহলে তা তাঁদের অজ্ঞতার পরিচয়। আর যদি জেনেশুনেই এই প্রচার চালিয়ে থাকেন, তাহলে তা ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এটি কেবল তথ্যগত ভুল নয়; এটি ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ।’’ 
সিপিআই(এম) বলেছে, ‘‘সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হল, এই অসত্য প্রচারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। যে রাজ্য একদিন বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা এবং অসংখ্য মনীষীর জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য বহন করেছে, সেই রাজ্যের শাসকরা আজ ইতিহাস ও শিক্ষার প্রশ্নে এমন নির্লজ্জ তথ্যবিকৃতি করছেন—এটি সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক পরম্পরার প্রতি অপমান।’’
সেলিম বলেন, ‘‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইতিহাসকে বিকৃত করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার একটি বৃহত্তর প্রকল্পেরই অংশ। তথ্য, গবেষণা ও দলিলভিত্তিক ইতিহাসচর্চার বদলে আবেগ, বিদ্বেষ ও অর্ধসত্যকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।’’
উল্লেখ্য, ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে ‘বাংলার জনক’ বলে প্রচারেও অর্ধসত্য এবং ইতিহাস বিকৃতির একাধিক প্রমাণ মিলেছে।

Comments :0

Login to leave a comment