উর্বর কৃষিজমির ওপর দিয়ে বসছে বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন টাওয়ার। চাষের জমিতে কাজ করাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আদানি গোষ্ঠীর এই প্রকল্পের প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনে শামিল গুজরাটেরই কৃষকরা।
গুজরাটের মোরবি জেলার জেটপারে এখন লাগাতার অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা। প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী। রাজ্যের মন্ত্রী কান্তিলাল অম্রুতিয়ার দুই ভাই, রাকেশভাই এবং ভরতভাই অম্রুতিয়াও, প্রতিবাদ অনশনে শামিল হয়েছেন।
কৃষিজমিতে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সংবহন স্তম্ভ তৈরি করেছে হালভাদ ট্রান্সমিশন লিমিটেড। এই প্রকল্পের জন্য আদানি এনার্জি সলিউশিনস-ই এই সংস্থাকে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে গঠন করেছে।
সংবাদমাধ্যমে কৃষকরা বলছেন যে তাঁদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ সরকারে আসীন বিজেপি এবং প্রশাসনের আচরণে। প্রায় ৩৫ গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন বিক্ষোভে শামিল হলেও কথা বলার প্রয়োজনটুকু মনে করছে না প্রশাসন। সাড়া দিচ্ছে না স্থানীয় পঞ্চায়েতের কেউ। প্রতিবাদে যোগ দিচ্ছেন গ্রামের কৃষক পরিবারের মহিলারা।
এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে কয়েকদফায় সংঘর্ষ হয়েছে কৃষকদের। সারা ভারত কৃষক সভা বলেছে, পাঞ্জাব থেকে মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা থেকে গুজরাট, কৃষকরা সর্বত্র নিজেদের চাষের জমি এবং জীবিকার বিষয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। প্রতিরোধও হচ্ছে।
কৃষক সভা বলেছে, প্রতিরোধের নতুন ঠিকানা এখন গুজরাটের মোরবি। কিভাবে জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন গুজরাটের শ্রমিকরা।
গুজরাটের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে যে ছয়টি দাবি তুলছেন কৃষকরা। তার মধ্যে প্রধান দাবি, জমির বর্তমান বাজার মূল্যের ৪০০ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ। গুজরাটের সরকারি খতিয়ানে জমির দামের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঠিক করলে লোকসান হবে কৃষকদের।
কৃষকদের ক্ষোভ, আশেপাশের অঞ্চলে অন্য প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন সময়ে জমি নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ছিল বেশি।
গত ১৫ জুন এই আন্দোলনের সমর্থনে গুজরাটে মিছিল করেছিল কংগ্রেস।
Comments :0