কলকাতা সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে তুমুল ঝড়বৃষ্টি। বাজ পড়ে, ঝড়ে গাছ পড়ে রাস্তায় জল জমে ব্যাহত স্বাভাবিক জনজীবন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছিল রোদের দাপট। বেলা বাড়েই শুরু হয় বৃষ্টি। বজ্র বিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল আবহাওয়া দপ্তরের।
উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় ঝড় ও বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। রয়েছে বজ্রপাতের আশঙ্কাও। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতেও রয়েছে ঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস রয়েছে পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমে জেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ঝড় বৃষ্টি হাতে পারে।
এদিনের ঝড় বৃষ্টির জেরে একাধিক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার। ধর্মতলা, পার্কস্ট্রিট এবং কলকাতা হাই কোর্ট এলাকার রাস্তায় একাধিক বড় গাছ ভেঙে যায়। শিয়ালদহ স্টেশনে নিরাপত্তার কারণে একাধিক ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর বসানো রয়েছে। এদিন ঝড়ের দাপটে সেগুলিও ভেঙে পড়ে। শিয়ালদহ স্টেশনে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের আনাগোনা। দূর-দূরান্ত থেকে মানষ শিয়ালদায় আসেন। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়েন এদিক-সেদিক। আবার ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরা সেই শিয়ালদা। স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বারের কাছে সবুজায়নের জন্য সুন্দর সাজানো বাগান তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে পূর্ব রেলের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিনের ঝড়ে সেগুলিও তছনছ হয়ে গেছে।
এদিন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে বাজও পড়েছে। মৌলালি থেকে প্রায় দুশো মিটার দূরে লেনিন সরণি রোডে ভেঙে পড়েছে গাছ। পার্ক স্ট্রিট, ধর্মতলা, কলেজ স্ট্রিট থেকে হাইকোর্ট চত্বর কলকাতার একাধিক রাস্তায় ভেঙে পড়েছে গাছ। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে একাধিক গাড়ি। ঝড়-বৃষ্টির জেরে বেশ কিছু রাস্তায় জল জমে যায়।
এদিন বেলা পৌনে চারটে নাগদ বাজ পড়তে দেখা যায় দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। বাজ পড়ে জ্বলতে থাকে রেল লাইনের পাশে থাকা একটি গাছ। কালো মেঘ গোটা এলাকা ঢেকে গেলেও বাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সময় ঘটনাস্থল থেকে যাওয়া ডাউন বনগাঁ লোকালের বগিগুলিতে আলোয় ছেঁয়ে যায়। বিকট শব্দে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্কিত হন রেল যাত্রীরা।
Comments :0