বেসরকারি হাতে কর্মী পরিষেবার হাসপাতাল তুলে দিচ্ছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার বিপন্ন। মঙ্গলবার তারাতলায় বন্দরের শতবার্ষিকী হাসপাতালে প্রতিবাদ জানিয়ে একথা বলেছেন কর্মচারী এবং শ্রমিকরা। কলকাতা বন্দরের কর্মী ও শ্রমিকদের দাবি, একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে হবে না। কথা বলতে হবে কর্মী এবং শ্রমিকদের সঙ্গে। কোনও নিয়মনীতি না মেনে একতরফাভাবে ঠিকাদারের হাতে তুলে দিতে চলেছে বন্দরের শতবার্ষিকী হাসপাতাল। সিআইটিইউ অনুমোদিত ক্যালকাটা পোর্ট অ্যান্ড শোর মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র মণ্ডল বলেছেন যে হাসপাতালটি ভেঙে নতুন ভবন করতে পারে বেসরকারি সংস্থা। বাদ পড়তে চলেছে্ন কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।
মাঝেরহাট ব্রিজের পূর্বদিকে ছয় একর জমি সহ হাসপাতাল বিল্ডিং মাত্র ৪১১ কোটি টাকায় একমাএ দরপত্র প্রদানকারী বেসরকারি মালিকের হাতে গণসংগঠন ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের প্রবল বিরোধিতা করার সত্ত্বেও। এমনকি, বন্দরের অছি পরিষদে শ্রমিক প্রতিনিধিদের তীব্র বিরোধিতা অগ্ৰাহ্য করে হাসপাতাল হস্তান্তর করার সিধান্ত গ্ৰহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি ২০০জনের বেশি চুক্তিবদ্ধ ও ঠিকাদার নিযুক্ত শ্রমিক-কর্মচারী কাজ হারাবেন।
মঙ্গলবার প্রতিবাদ সভায় ১৫০ জনের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক- কর্মচারী দাবিসনদ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে মৌন মিছিল করেন। মিছিল শেষে শ্রমিক প্রতিনিধিরা হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সভায় সমরেন্দ্র মণ্ডল বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়িয়ে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে রুপান্তরিত করতে চাইছে এই হাসপাতালকে বেসরকারিকরণের মধ্যে দিয়ে, যা শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল বিল্ডিং ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক কর্মচারীদের সজাগ থাকতে হবে। অবিলম্বে হাসপাতাল বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। অন্যাথায় আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের উপ সাধারণ সম্পাদক কাবেরী দাস সিংহরায়, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক হরিপদ থাণ্ডার, গোপাল বর্মন ও মৃণালকান্তি রায়। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি মহম্মদ ফিরোজ খান।
বন্দর শতবার্ষিলী হাসপাতাল বেসরকরীকরণের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভা।
Comments :0